ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিনয়ে নতুন অধ্যায়, মডেলিংই প্রথম ভালোবাসা সিটি ব্যাংকের এমডি নন, ‘মাসরুর’ পরিচয় নিয়ে নতুন গুঞ্জন নায়করাজের স্মৃতিতে আবির চৌধুরী আফতাবনগর সোসাইটিতে আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগ ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল নিয়ে কর্মশালায় তপু খান ১৮৫ দেশ জয়: লাল-সবুজের পতাকা হাতে নতুন ইতিহাস গড়লেন নাজমুন নাহার অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সফল নওরিন ​বিএমডিএতে ফের জাহাঙ্গীর : জনস্বার্থে অপসারণের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন: শ্রমিক নেতা এয়াকুব বিজ্ঞাপন থেকে সিনেমা, সামিয়ার স্বপ্নের পথে নতুন বাঁক

গোদাগাড়ীতে টপ সয়েল নিধনে বাধা দেওয়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’কে হুমকি, অডিও বিকৃত করে অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষি জমির উর্বর ‘টপ সয়েল’ (উপরের অংশের মাটি) নিধনে বাধা দেওয়া এবং প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ মুরসালিন ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

টপ সয়েল নিধন চক্রের অন্যতম হোতা কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা একটি পুরোনো অডিও ক্লিপ বিকৃত (মেকানিজম) করে তা চাঁদা দাবির নাটক সাজিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মুরসালিন ইসলাম তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গোদাগাড়ী উপজেলার জলাহার এলাকায় একটি উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার পাঁয়তারা করছিল কামরুজ্জামান ও তার চক্র। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বাধা দেয় এবং মুরসালিন ইসলামকে অবহিত করে। মুরসালিন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) ফোন করে জানান। তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন এবং আইন অমান্য করায় মাটিখেকো কামরুজ্জামানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ভুক্তভোগী মুরসালিন ইসলামের অভিযোগ, জরিমানা হওয়ার পর থেকেই কামরুজ্জামান তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিশোধ নিতে সে একটি পুরোনো অডিও রেকর্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মুরসালিন জানান, কিছুদিন আগে তার একটি উঁচু জমির মাটি কাটার বিষয়ে কামরুজ্জামানের সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। সেখানে তিনি এক গাড়ি মাটির জন্য ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। সম্প্রতি ইউএনওর অভিযানে জরিমানা খাওয়ার পর কামরুজ্জামান ওই আগের অডিওটি কাটছাঁট ও মেকানিজম করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি চাঁদা দাবি করেছেন বলে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদ লিপি দেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

মুরসালিন আরও জানান, কামরুজ্জামান মূলত এই অঞ্চলের টপ সয়েল নিধন চক্রের অন্যতম মূল হোতা। গোদাগাড়ী উপজেলায় যতগুলো টপ সয়েল কাটার ঘটনা ঘটে, তার প্রায় ৯০ শতাংশেরই নেতৃত্ব দেয় এই কামরুজ্জামান। মাটি কাটার পাশাপাশি সে তার শ্বশুরের সাথে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করা কামরুজ্জামানের হঠাৎ এই আকাশছোঁয়া উত্থান কোথা থেকে হলো—তা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বর্তমানে তার ৬-৭টি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধামকি পাওয়ায় মুরসালিন ইসলাম এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি এই চক্রের কবল থেকে বাঁচতে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কথা বললে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, তিনি এমন ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। কেউ অভিযোগ করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গোদাগাড়ীতে টপ সয়েল নিধনে বাধা দেওয়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’কে হুমকি, অডিও বিকৃত করে অপপ্রচার

আপডেট সময় : ১১:০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষি জমির উর্বর ‘টপ সয়েল’ (উপরের অংশের মাটি) নিধনে বাধা দেওয়া এবং প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ মুরসালিন ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

টপ সয়েল নিধন চক্রের অন্যতম হোতা কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা একটি পুরোনো অডিও ক্লিপ বিকৃত (মেকানিজম) করে তা চাঁদা দাবির নাটক সাজিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মুরসালিন ইসলাম তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গোদাগাড়ী উপজেলার জলাহার এলাকায় একটি উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার পাঁয়তারা করছিল কামরুজ্জামান ও তার চক্র। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বাধা দেয় এবং মুরসালিন ইসলামকে অবহিত করে। মুরসালিন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) ফোন করে জানান। তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন এবং আইন অমান্য করায় মাটিখেকো কামরুজ্জামানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ভুক্তভোগী মুরসালিন ইসলামের অভিযোগ, জরিমানা হওয়ার পর থেকেই কামরুজ্জামান তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিশোধ নিতে সে একটি পুরোনো অডিও রেকর্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মুরসালিন জানান, কিছুদিন আগে তার একটি উঁচু জমির মাটি কাটার বিষয়ে কামরুজ্জামানের সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। সেখানে তিনি এক গাড়ি মাটির জন্য ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। সম্প্রতি ইউএনওর অভিযানে জরিমানা খাওয়ার পর কামরুজ্জামান ওই আগের অডিওটি কাটছাঁট ও মেকানিজম করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি চাঁদা দাবি করেছেন বলে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদ লিপি দেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

মুরসালিন আরও জানান, কামরুজ্জামান মূলত এই অঞ্চলের টপ সয়েল নিধন চক্রের অন্যতম মূল হোতা। গোদাগাড়ী উপজেলায় যতগুলো টপ সয়েল কাটার ঘটনা ঘটে, তার প্রায় ৯০ শতাংশেরই নেতৃত্ব দেয় এই কামরুজ্জামান। মাটি কাটার পাশাপাশি সে তার শ্বশুরের সাথে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করা কামরুজ্জামানের হঠাৎ এই আকাশছোঁয়া উত্থান কোথা থেকে হলো—তা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বর্তমানে তার ৬-৭টি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধামকি পাওয়ায় মুরসালিন ইসলাম এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি এই চক্রের কবল থেকে বাঁচতে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কথা বললে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, তিনি এমন ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। কেউ অভিযোগ করেনি।