ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে : প্রধান প্রকৌশলী থেকে জিএম আহমেদ হোসেন মাসুমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ‘পটু’ চরিত্রে অভিনয়ে নজর কাড়লেন শিশুশিল্পী আয়াত গুলশান-২ এ ‘বারোক ক্যাফের’ নতুন শাখার উদ্বোধন চলচ্চিত্র পরিচালক ইকবালের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটে দোকান বরাদ্দ নিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা ও চুরির অভিযোগ দেশীয় ফ্যাশনের ব্র্যান্ড নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো রানওয়ে উইক ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ফেন্সি আইকনিকের নতুন আউটলেট পলাতক আলিফকে খুঁজছে পুলিশ নাচ থেকে অভিনয়ে, ব্যস্ত সময় পার করছেন সোনিয়া লাজুক ‘শিক্ষার্থী নিয়ে উধাও’ হওয়ার খবর কাল্পনিক, সামাজিকভাবে হেয় করার চক্রান্ত : আইএইচটি শিক্ষক

রাজশাহী কারাগারে আমের উৎসব, দুধের সঙ্গে বন্দীরা পাচ্ছেন মৌসুমী ফল

সুলতানুল আরেফিন
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিচিত গম্ভীর পরিবেশ ছাপিয়ে এখন বইছে এক অন্যরকম আনন্দের হাওয়া। কারা কর্তৃপক্ষের এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বন্দীরা মৌসুমী ফল হিসেবে পাচ্ছেন বিখ্যাত ল্যাংড়া আম, সঙ্গে দুধ। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণেরও সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা, যা কারাগারের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে বন্দিজীবনেও যেন মৌসুমের সেরা ফলের স্বাদ থেকে কেউ বঞ্চিত না হন, সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন করেছে কারা প্রশাসন।

গত ২২ জুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে কারাগারের প্রায় ৩ হাজার বন্দী এই সুবিধা পাচ্ছেন, যাদের একটি বড় অংশই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের বাসিন্দা।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে মানবিক দিকটি হলো, বন্দীদের জন্য পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণের সুযোগ। কারাগারের কঠোর নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন সুযোগ দেওয়ায় বন্দীরা যেমন খুশি, তেমনি তাদের পরিবারও পেয়েছে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি। কারা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, “রাজশাহী আমের জন্য বিখ্যাত। এখানকার বন্দীরাও এই সমাজেরই অংশ। তাদের মনে একটু আনন্দ দেওয়া এবং মৌসুমী ফলের স্বাদ উপভোগ করানোর জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। তাদের মুখের হাসিই আমাদের সার্থকতা।”

কারা কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে বন্দীদের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে গেছে। বন্দিজীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এমন আয়োজন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই উদ্যোগ কারাগারকে কেবল শাস্তির স্থান হিসেবে না দেখে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহী কারাগারে আমের উৎসব, দুধের সঙ্গে বন্দীরা পাচ্ছেন মৌসুমী ফল

আপডেট সময় : ০৫:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিচিত গম্ভীর পরিবেশ ছাপিয়ে এখন বইছে এক অন্যরকম আনন্দের হাওয়া। কারা কর্তৃপক্ষের এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বন্দীরা মৌসুমী ফল হিসেবে পাচ্ছেন বিখ্যাত ল্যাংড়া আম, সঙ্গে দুধ। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণেরও সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা, যা কারাগারের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে বন্দিজীবনেও যেন মৌসুমের সেরা ফলের স্বাদ থেকে কেউ বঞ্চিত না হন, সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন করেছে কারা প্রশাসন।

গত ২২ জুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে কারাগারের প্রায় ৩ হাজার বন্দী এই সুবিধা পাচ্ছেন, যাদের একটি বড় অংশই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের বাসিন্দা।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে মানবিক দিকটি হলো, বন্দীদের জন্য পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণের সুযোগ। কারাগারের কঠোর নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন সুযোগ দেওয়ায় বন্দীরা যেমন খুশি, তেমনি তাদের পরিবারও পেয়েছে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি। কারা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, “রাজশাহী আমের জন্য বিখ্যাত। এখানকার বন্দীরাও এই সমাজেরই অংশ। তাদের মনে একটু আনন্দ দেওয়া এবং মৌসুমী ফলের স্বাদ উপভোগ করানোর জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। তাদের মুখের হাসিই আমাদের সার্থকতা।”

কারা কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে বন্দীদের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে গেছে। বন্দিজীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এমন আয়োজন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই উদ্যোগ কারাগারকে কেবল শাস্তির স্থান হিসেবে না দেখে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।