ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে শিবিরের বিরুদ্ধে দুই হোটেলে তাণ্ডবের অভিযোগ, থমথমে পরিস্থিতি বিএসএফ নিতে প্রস্তুত, আইনি জটিলতায় নিজ দেশে ফিরতে পারছে না চার ভারতীয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের সাথে রেডা নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহী নৃত্যশিল্পী ঐক্য জোটের রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারী তিন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ! কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রকৃত তথ্য জানাল সিটি কর্পোরেশন ​প্রতারণা মামলায় রাজশাহীতে কথিত সাংবাদিক চপল গ্রেফতার দুই মাসে ১৪ নির্যাতন, রাজশাহীতে নারী ও শিশু পরিস্থিতি হতাশাজনক বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হাসিনা আনছারের জন্মদিন

রাজশাহী কারাগারে আমের উৎসব, দুধের সঙ্গে বন্দীরা পাচ্ছেন মৌসুমী ফল

সুলতানুল আরেফিন
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিচিত গম্ভীর পরিবেশ ছাপিয়ে এখন বইছে এক অন্যরকম আনন্দের হাওয়া। কারা কর্তৃপক্ষের এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বন্দীরা মৌসুমী ফল হিসেবে পাচ্ছেন বিখ্যাত ল্যাংড়া আম, সঙ্গে দুধ। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণেরও সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা, যা কারাগারের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে বন্দিজীবনেও যেন মৌসুমের সেরা ফলের স্বাদ থেকে কেউ বঞ্চিত না হন, সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন করেছে কারা প্রশাসন।

গত ২২ জুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে কারাগারের প্রায় ৩ হাজার বন্দী এই সুবিধা পাচ্ছেন, যাদের একটি বড় অংশই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের বাসিন্দা।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে মানবিক দিকটি হলো, বন্দীদের জন্য পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণের সুযোগ। কারাগারের কঠোর নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন সুযোগ দেওয়ায় বন্দীরা যেমন খুশি, তেমনি তাদের পরিবারও পেয়েছে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি। কারা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, “রাজশাহী আমের জন্য বিখ্যাত। এখানকার বন্দীরাও এই সমাজেরই অংশ। তাদের মনে একটু আনন্দ দেওয়া এবং মৌসুমী ফলের স্বাদ উপভোগ করানোর জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। তাদের মুখের হাসিই আমাদের সার্থকতা।”

কারা কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে বন্দীদের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে গেছে। বন্দিজীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এমন আয়োজন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই উদ্যোগ কারাগারকে কেবল শাস্তির স্থান হিসেবে না দেখে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহী কারাগারে আমের উৎসব, দুধের সঙ্গে বন্দীরা পাচ্ছেন মৌসুমী ফল

আপডেট সময় : ০৫:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিচিত গম্ভীর পরিবেশ ছাপিয়ে এখন বইছে এক অন্যরকম আনন্দের হাওয়া। কারা কর্তৃপক্ষের এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বন্দীরা মৌসুমী ফল হিসেবে পাচ্ছেন বিখ্যাত ল্যাংড়া আম, সঙ্গে দুধ। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণেরও সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা, যা কারাগারের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে বন্দিজীবনেও যেন মৌসুমের সেরা ফলের স্বাদ থেকে কেউ বঞ্চিত না হন, সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন করেছে কারা প্রশাসন।

গত ২২ জুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে কারাগারের প্রায় ৩ হাজার বন্দী এই সুবিধা পাচ্ছেন, যাদের একটি বড় অংশই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের বাসিন্দা।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে মানবিক দিকটি হলো, বন্দীদের জন্য পরিবারের পাঠানো আম গ্রহণের সুযোগ। কারাগারের কঠোর নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন সুযোগ দেওয়ায় বন্দীরা যেমন খুশি, তেমনি তাদের পরিবারও পেয়েছে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি। কারা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, “রাজশাহী আমের জন্য বিখ্যাত। এখানকার বন্দীরাও এই সমাজেরই অংশ। তাদের মনে একটু আনন্দ দেওয়া এবং মৌসুমী ফলের স্বাদ উপভোগ করানোর জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। তাদের মুখের হাসিই আমাদের সার্থকতা।”

কারা কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে বন্দীদের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে গেছে। বন্দিজীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এমন আয়োজন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই উদ্যোগ কারাগারকে কেবল শাস্তির স্থান হিসেবে না দেখে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।