ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের আতাইঘাটে টাঙ্গন নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পীরগঞ্জ ও সেতাবগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের মানুষ। জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকায় করে সাধারণ মানুষ নদী পারাপার হতে পারলেও প্রায় ৪০ কিঃ মিঃ পথ ঘুড়ে কৃষিপন্য সহ অন্যান্য মালামাল আনা নেওয়া করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। তবে ব্রীজ নির্মানের কনসালটেন্ট বলছেন, সেখানে ব্রীজ নির্মানের সাম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ অনেকদুর এগিয়েছে।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ এবং দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে গেছে টাঙ্গন নদী। পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের আতাই ঘাটে এ নদীতে ব্রীজ না থাকায় জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকায় করে প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ নদী পারাপার হচ্ছেন। এ ঘাটের পশ্চিম পাশে^ পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট, দৌলতপুর, সেনগাঁও ও হাজীপুর ইউনিয়ন। পূর্বপাড়ে সেতাবগঞ্জ উপজেলার রনগাঁও, ও নাফানগর ইউনিয়ন। দুই উপজেলার ৬ ইউনিয়নের মানুষের নদীর উভয় পাড়ে জায়গা জমি রয়েছে। কৃষি সহ বিভিন্ন কাজে এইসব এলাকার মানুষের একে অপরের সাথে যোগাযোগে একমাত্র ভরসা নৌকা। নৌকায় করে লোকজন যাতায়াত করতে পারলেও কৃষিপন্য সহ ভারী মালামাল আনা নেওয়ার জন্য প্রায় ৪০ কিঃমিঃ ঘুড়ে পীরগঞ্জ শহর হয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। তাছাড়াও এই ঘাটের উভয় পাশে^ সেতাবাগঞ্জ ও জাবরহাট নামে দুইটি বড় বাজার রয়েছে। এ বাজারে কৃষি পন্য সহ অন্যান্য জিসিনপত্র বেচা কেনার জন্য মানুষজনকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও নদীর এপারে পীরগঞ্জ উপজেলায় সেতাবাগঞ্জ চিনিকলের বেশ কয়েটি ফার্ম রয়েছে। এইসব ফার্মের আঁখ ৪০ কিঃমিঃ ঘুড়ে চিনিকলে নিতে হয়। এতে সময় ও খরচ বাড়ে। আতাই ঘাটে ব্রীজ নির্মানের জন্য মানববন্ধন সহ সভা সমাবেশ করে আসছেন নদী পাড়ের মানুষ। আকতার হোসেন নামে বিএনপির এক জানান, ব্রীজটির জন্য তারা চরম আসুবিধায় রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় করে নদী পারাপারের সময় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। ছাত্র-ছাত্রীদের বই খাতা ভিজে যায়। ঘাটের পশ্চিম পড়ের বাসিন্দা কাকন বালা জানান, নদীর পুর্ব পাড়ে তাদের একটি বড় মন্দির আছে। সেখানে প্রতি বছর বড় মেলা বসে। ব্রীজ না থাকা জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকায় করে তাদের সেখানে যেতে হয়।
জাবরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া জানান, সেখানে ব্রীজ নির্মান হলে, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ আত্নসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
ব্রীজ নির্মানের স্বাম্ভব্যতা যাচাইয়ের কাজ অনেকাংশে এগিয়েছে বলে জানান ইকিউএমএস নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর সহকারী কনসালটেন্ট শাহরিয়ার হোসেন সিয়াম। তিনি ব্রীজ নির্মানের সাম্ভব্যতার প্রাথমিক যাচাই করেছেন। তিনি জানান, আর দুটি টিম সরেজমি এসে কিছু পরীক্ষা-নীরীক্ষা করবেন। এরপরই ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু হবে।
উপজেলা প্রক্যেশলী মাঈদুলা ইসলাম জানান, সেখানে ব্রীজ নির্মানের বিষয়টি প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।
















