ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অল্প বয়সেই একের পর এক সাফল্য, আইপা অ্যাওয়ার্ড জিতল আনাহিতা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের গল্প নিয়ে নিউইয়র্কে ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বহুমুখী ওপেন মার্কেটপ্লেস টেকসই উন্নয়ন ও মানবসেবার প্রত্যয়ে ‘সি ফাউন্ডেশন’-এর পথচলা ​নাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পরিচয় ‘সাংবাদিক’ : বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে হামলায় যুবলীগ কর্মী জেলে নারীদের নিয়ে বড় স্বপ্ন, সেরা উদ্যোক্তার সম্মাননা পেলেন আফরোজা দেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল–২০২৬ অফিসিয়াল সিলেকশনে ‘বৈদেশ’ উমারপুর ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল হিসেবে গড়তে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলাম মন্ডল ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে যুবলীগ নেতা প্রার্থী সংস্কৃতি অঙ্গনে অনন্যা আজিজের নতুন পথচলা

বুলবুলির নাচঘরে রসের সুর, হেমন্তের মায়াবী আমেজ!

আবু তারেক - বাঁধন
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২০৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁও: হেমন্তের স্নিগ্ধ পরশ যেন ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে এক ভিন্ন উৎসবের রং মেখে দিয়েছে। এ উৎসব কেবল প্রকৃতির নয়, এ উৎসব বুলবুলির গানের, গাছিদের নিবিড় ব্যস্ততার আর গ্রামীণ জীবনের অপার সৌন্দর্যের। জেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে, নারগুণ ইউনিয়নের বোচাপুকুর নালাহাটের সুবিশাল ইক্ষু খামারের খেজুর বাগানটি এখন প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর ‘বুলবুলি উৎসবের’ মঞ্চ!
​শান্ত, ছায়াঘেরা পিচঢালা পথ ধরে এগোলেই দেখা মেলে এই ‘খেজুর রাজ্য’, যা এই হেমন্তে পরিণত হয়েছে এক স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের মিলন মেলায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের হৃদয়ে সুর তুলছে এখানকার প্রতিটি দৃশ্য, যা মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিচ্ছে শহরের ক্লান্তি।

​শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই এই খেজুরের রাজ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখির আগমন ঘটে। এ গাছ থেকে ও গাছে তাদের নিরন্তর লাফালাফি, কিচিরমিচির আর ডানার কসরত—এ যেন প্রকৃতির এক চমৎকার, অবারিত ‘বুলবুলির সার্কাস’! তাদের এই দুরন্তপনা দেখে পর্যটকদের মন ভরে ওঠে নৈসর্গীয় সুখে। কেবল বুলবুলিই নয়, দোয়েল, শালিক, বক, মাছরাঙ্গা, ফিঙে আর ঘুঘুর মতো নানা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এই বাগান, যা প্রাণে এনে দেয় এক অনাবিল শান্তি।
​এনজিও কর্মী নীলা রানীর কথায় সেই শান্তিরই প্রতিধ্বনি: ক্লান্তি দূর করতে এসে বুলবুলি পাখির কোলাহল আর খেজুর রস সংগ্রহের দৃশ্য দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। ইট-পাথরের শহর ছেড়ে এসে এখানে যেন কবি জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’-র অপরূপ দৃশ্যের মাঝে নিজেদের খুঁজে পেলাম।”
​পাশাপাশি চলছে গাছিদের নিবিড় কর্মযজ্ঞ। কাকভোরে গাছ চিরে রস নামানোর ব্যস্ততা। রস সংগ্রহকারী আব্দুর রহমান, যিনি ৫-৬ বছর ধরে এই বাগানে কাজ করছেন, জানান—হেমন্ত ও শীত মৌসুমে এই বাগান বিভিন্ন বয়সের মানুষের আগমনে সত্যি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আরেক গাছি ইয়ার আলী বলেন, প্রায় ১ হাজার গাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার রস সংগ্রহ হয়—যা শুধু বিনোদন নয়, বহু মানুষের জন্য জীবিকার সংস্থানও তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বুলবুলির নাচঘরে রসের সুর, হেমন্তের মায়াবী আমেজ!

আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ঠাকুরগাঁও: হেমন্তের স্নিগ্ধ পরশ যেন ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে এক ভিন্ন উৎসবের রং মেখে দিয়েছে। এ উৎসব কেবল প্রকৃতির নয়, এ উৎসব বুলবুলির গানের, গাছিদের নিবিড় ব্যস্ততার আর গ্রামীণ জীবনের অপার সৌন্দর্যের। জেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে, নারগুণ ইউনিয়নের বোচাপুকুর নালাহাটের সুবিশাল ইক্ষু খামারের খেজুর বাগানটি এখন প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর ‘বুলবুলি উৎসবের’ মঞ্চ!
​শান্ত, ছায়াঘেরা পিচঢালা পথ ধরে এগোলেই দেখা মেলে এই ‘খেজুর রাজ্য’, যা এই হেমন্তে পরিণত হয়েছে এক স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের মিলন মেলায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের হৃদয়ে সুর তুলছে এখানকার প্রতিটি দৃশ্য, যা মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিচ্ছে শহরের ক্লান্তি।

​শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই এই খেজুরের রাজ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখির আগমন ঘটে। এ গাছ থেকে ও গাছে তাদের নিরন্তর লাফালাফি, কিচিরমিচির আর ডানার কসরত—এ যেন প্রকৃতির এক চমৎকার, অবারিত ‘বুলবুলির সার্কাস’! তাদের এই দুরন্তপনা দেখে পর্যটকদের মন ভরে ওঠে নৈসর্গীয় সুখে। কেবল বুলবুলিই নয়, দোয়েল, শালিক, বক, মাছরাঙ্গা, ফিঙে আর ঘুঘুর মতো নানা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এই বাগান, যা প্রাণে এনে দেয় এক অনাবিল শান্তি।
​এনজিও কর্মী নীলা রানীর কথায় সেই শান্তিরই প্রতিধ্বনি: ক্লান্তি দূর করতে এসে বুলবুলি পাখির কোলাহল আর খেজুর রস সংগ্রহের দৃশ্য দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। ইট-পাথরের শহর ছেড়ে এসে এখানে যেন কবি জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’-র অপরূপ দৃশ্যের মাঝে নিজেদের খুঁজে পেলাম।”
​পাশাপাশি চলছে গাছিদের নিবিড় কর্মযজ্ঞ। কাকভোরে গাছ চিরে রস নামানোর ব্যস্ততা। রস সংগ্রহকারী আব্দুর রহমান, যিনি ৫-৬ বছর ধরে এই বাগানে কাজ করছেন, জানান—হেমন্ত ও শীত মৌসুমে এই বাগান বিভিন্ন বয়সের মানুষের আগমনে সত্যি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আরেক গাছি ইয়ার আলী বলেন, প্রায় ১ হাজার গাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার রস সংগ্রহ হয়—যা শুধু বিনোদন নয়, বহু মানুষের জন্য জীবিকার সংস্থানও তৈরি করেছে।