বুলবুলির নাচঘরে রসের সুর, হেমন্তের মায়াবী আমেজ!
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৫ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও: হেমন্তের স্নিগ্ধ পরশ যেন ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে এক ভিন্ন উৎসবের রং মেখে দিয়েছে। এ উৎসব কেবল প্রকৃতির নয়, এ উৎসব বুলবুলির গানের, গাছিদের নিবিড় ব্যস্ততার আর গ্রামীণ জীবনের অপার সৌন্দর্যের। জেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে, নারগুণ ইউনিয়নের বোচাপুকুর নালাহাটের সুবিশাল ইক্ষু খামারের খেজুর বাগানটি এখন প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর ‘বুলবুলি উৎসবের’ মঞ্চ!
শান্ত, ছায়াঘেরা পিচঢালা পথ ধরে এগোলেই দেখা মেলে এই ‘খেজুর রাজ্য’, যা এই হেমন্তে পরিণত হয়েছে এক স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের মিলন মেলায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের হৃদয়ে সুর তুলছে এখানকার প্রতিটি দৃশ্য, যা মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিচ্ছে শহরের ক্লান্তি।
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই এই খেজুরের রাজ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখির আগমন ঘটে। এ গাছ থেকে ও গাছে তাদের নিরন্তর লাফালাফি, কিচিরমিচির আর ডানার কসরত—এ যেন প্রকৃতির এক চমৎকার, অবারিত ‘বুলবুলির সার্কাস’! তাদের এই দুরন্তপনা দেখে পর্যটকদের মন ভরে ওঠে নৈসর্গীয় সুখে। কেবল বুলবুলিই নয়, দোয়েল, শালিক, বক, মাছরাঙ্গা, ফিঙে আর ঘুঘুর মতো নানা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এই বাগান, যা প্রাণে এনে দেয় এক অনাবিল শান্তি।
এনজিও কর্মী নীলা রানীর কথায় সেই শান্তিরই প্রতিধ্বনি: ক্লান্তি দূর করতে এসে বুলবুলি পাখির কোলাহল আর খেজুর রস সংগ্রহের দৃশ্য দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। ইট-পাথরের শহর ছেড়ে এসে এখানে যেন কবি জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’-র অপরূপ দৃশ্যের মাঝে নিজেদের খুঁজে পেলাম।”
পাশাপাশি চলছে গাছিদের নিবিড় কর্মযজ্ঞ। কাকভোরে গাছ চিরে রস নামানোর ব্যস্ততা। রস সংগ্রহকারী আব্দুর রহমান, যিনি ৫-৬ বছর ধরে এই বাগানে কাজ করছেন, জানান—হেমন্ত ও শীত মৌসুমে এই বাগান বিভিন্ন বয়সের মানুষের আগমনে সত্যি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আরেক গাছি ইয়ার আলী বলেন, প্রায় ১ হাজার গাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার রস সংগ্রহ হয়—যা শুধু বিনোদন নয়, বহু মানুষের জন্য জীবিকার সংস্থানও তৈরি করেছে।

















