ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধুপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সেমাজুল হকের বিরুদ্ধে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও জন্মনিবন্ধন সংশোধনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত  পীরগঞ্জে ৪২২ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী আটক মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত মানবিকতার জয়গান, রাজশাহীতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ঘোষণা বিরলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুফল ভোগীদের মাঝে ছাগল ও উপকরন বিতরণ বিরলে নোনাখাড়ি পুনঃ খননের উদ্বোধন পীরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউ টিন বিতরণ

গোদাগাড়ীতে চাল কাণ্ড : নাজমুল–মোহাম্মদ আলীর সম্মিলিত দুর্নীতির অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর খাদ্য বিভাগে একই ধরনের অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া দুই রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। কেউ বলছেন,এটি প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব, আবার কেউ স্পষ্ট ভাষায় বলছেন,“বিদায়ী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওমর ফারুক ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীর প্রভাবেই গোদাগাড়ীতে অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।” এরই মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীর ঘুষ গ্রহণকালে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় পুরো চিত্র নতুন করে সামনে এসেছে।

অনুসন্ধান বলছে, গোদাগাড়ীর চাল–কেলেঙ্কারি, নাজমুল আলমের সুবিধাজনক বদলি এবং নওগাঁর সেই মোহাম্মদ আলীর ঘুষকাণ্ড—সবই একই দুর্নীতিচক্রের ভিন্ন ভিন্ন অংশ।

এই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় আসে নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীর নাম। মোহাম্মদ আলী বর্তমানে গোদাগাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সেকেন্দার আলীর ছেলে। মোহাম্মদ আলী নঁওগায় কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসের ২০ তারিখে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুদকের হাতে গ্রেপ্তার ও থানায় মামলা হওয়ার পরও মোহাম্মদ আলী বর্তমানে গোদাগাড়ী উপজেলায় বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তারা বলছেন, এভাবে একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা খাদ্য বিভাগে দুর্নীতির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দিলে খাদ্য বিভাগের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোদাগাড়ীর চাল–কেলেঙ্কারি ও নওগাঁর ঘুষকাণ্ডকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখলে সত্য আড়ালই থেকে গেছে। সমন্বিত তদন্ত হলে খাদ্য বিভাগের ভেতরের গভীর অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও যোগসাজশের পূর্ণ চিত্র বেরিয়ে আসবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,“নাজমুল আলমের নীরব সমর্থন ও মোহাম্মদ আলীর মতো কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়া ছাড়া এমন প্রতারণা সম্ভব হতো না।”

স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হয় এবং সাধারণ জনগণের আস্থা ফেরানো যায়।

বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া নিম্নমানের ও তামাটে চাল ক্রয়ের অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হন। গত ৯ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জয়নাল মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সরাসরি জনস্বার্থে অবসরে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত গোদাগাড়ীর ওসিএলএসডি নাজমুল আলমকে শাস্তির বদলে কেবল নাটোরের বড়াইগ্রামে বদলি করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের ভাষায় “সুবিধাজনক রক্ষা-কবচ”।

স্থানীয়রা বলছেন, কেন বাগমারায় কঠোর শাস্তি, আর গোদাগাড়ীতে হাতখুলে ছাড়?

অভিযোগ উঠেছে, বিদায়ী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওমর ফারুকের সুরক্ষার ফলেই নাজমুল আলম দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগের মুখেও বহাল তবিয়তে ছিলেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, বিতর্কের মধ্যেই বদলিকৃত কর্মকর্তা নাজমুল আলম ইতোমধ্যে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম খাদ্যগুদামে যোগদান করেছেন।

স্থানীয় সূত্র বলছে—বদলির পর যোগদানকে ঘিরেও নানান প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, কঠোর শাস্তির বদলে “সহজ একটি বদলি” তাঁকে ভবিষ্যৎ দায় থেকে আড়াল করার সুযোগ দিতে পারে।

বড়াইগ্রামে নাজমুল আলমের যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় খাদ্য ডিলার, গুদাম শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কেউ বলছেন—“যে কর্মকর্তাকে নিয়ে এত প্রশ্ন, তাঁকে এখানে দিলে আমরাও নিশ্চিন্ত নই।”

আবার কেউ মনে করছেন—“নতুন জায়গায় এলে হয়তো তিনি স্বচ্ছভাবে কাজ করতে চাইবেন।”

গোদাগাড়ী খাদ্যগুদামে চালের মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, বিভিন্ন ডিলারের সঙ্গে নাজমুল আলমের ‘অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

গোদাগাড়ী খাদ্যগুদামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের মান নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায়। অভিযোগ ছিল—চালে অতিরিক্ত খুদ, ভাঙা দানা, অর্ধসিদ্ধ চাল, বিবর্ণ দানা, চালের গুঁড়া, এমনকি দুর্গন্ধও পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাপা হয় ১৩.৮%। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ—চালের একটি বড় অংশে মরা দানা ও খুদ পাওয়া যায়, যা অনুমোদিত মানের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি।

ঘটনার দিন স্থানীয় সাংবাদিকরা গুদাম পরিদর্শনে গেলে ওসিএলএসডি নাজমুল আলম প্রবেশে বাধা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান—“জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া গুদামে প্রবেশ করা যাবে না। চাইলে একজন যেতে পারেন, তবে মোবাইল বা ক্যামেরা ছাড়া।”

এই আচরণে আরও সন্দেহ সৃষ্টি হয়। অনেকে মনে করেন, গণমাধ্যমকে দূরে রাখার চেষ্টা মানেই অনিয়ম আড়াল করার প্রক্রিয়া।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীও বলেন, “গুদামে প্রায় ৫ হাজার টন চাল ও ১১ টন গম আছে। দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে।”

স্থানীয় ডিলার সাইফুল ইসলামের কাছে সেদিনই ১৫ হাজার ২৭০ কেজি চাল হস্তান্তর করা হয়। একই সময়ে গুদামের ভেতর থেকে ট্রলি-ট্রাক-ট্রাক্টরে করে চাল সরানো হতে দেখা যায়। নিরাপত্তা প্রহরী মনিরুজ্জামানও স্বীকার করেন—“একটি ট্রাকের চাল পাঠানো হয়েছে, আরেকটি আসছে।” স্থানীয়দের ধারণা—নিম্নমানের চাল গোপনে সরিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছিল।

ঘটনার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল বলেন, গুদাম পরিদর্শনে তিনি চালকে “ভালো” পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই অবস্থান পুরো ঘটনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে শুধু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেই নয়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ধান–চাল সংগ্রহ মৌসুমে চলা ভয়াবহ অনিয়ম ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ পায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন,

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গোদাগাড়ীতে চাল কাণ্ড : নাজমুল–মোহাম্মদ আলীর সম্মিলিত দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর খাদ্য বিভাগে একই ধরনের অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া দুই রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। কেউ বলছেন,এটি প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব, আবার কেউ স্পষ্ট ভাষায় বলছেন,“বিদায়ী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওমর ফারুক ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীর প্রভাবেই গোদাগাড়ীতে অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।” এরই মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীর ঘুষ গ্রহণকালে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় পুরো চিত্র নতুন করে সামনে এসেছে।

অনুসন্ধান বলছে, গোদাগাড়ীর চাল–কেলেঙ্কারি, নাজমুল আলমের সুবিধাজনক বদলি এবং নওগাঁর সেই মোহাম্মদ আলীর ঘুষকাণ্ড—সবই একই দুর্নীতিচক্রের ভিন্ন ভিন্ন অংশ।

এই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় আসে নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীর নাম। মোহাম্মদ আলী বর্তমানে গোদাগাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সেকেন্দার আলীর ছেলে। মোহাম্মদ আলী নঁওগায় কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসের ২০ তারিখে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুদকের হাতে গ্রেপ্তার ও থানায় মামলা হওয়ার পরও মোহাম্মদ আলী বর্তমানে গোদাগাড়ী উপজেলায় বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তারা বলছেন, এভাবে একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা খাদ্য বিভাগে দুর্নীতির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দিলে খাদ্য বিভাগের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোদাগাড়ীর চাল–কেলেঙ্কারি ও নওগাঁর ঘুষকাণ্ডকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখলে সত্য আড়ালই থেকে গেছে। সমন্বিত তদন্ত হলে খাদ্য বিভাগের ভেতরের গভীর অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও যোগসাজশের পূর্ণ চিত্র বেরিয়ে আসবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,“নাজমুল আলমের নীরব সমর্থন ও মোহাম্মদ আলীর মতো কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়া ছাড়া এমন প্রতারণা সম্ভব হতো না।”

স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হয় এবং সাধারণ জনগণের আস্থা ফেরানো যায়।

বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া নিম্নমানের ও তামাটে চাল ক্রয়ের অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হন। গত ৯ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জয়নাল মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সরাসরি জনস্বার্থে অবসরে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত গোদাগাড়ীর ওসিএলএসডি নাজমুল আলমকে শাস্তির বদলে কেবল নাটোরের বড়াইগ্রামে বদলি করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের ভাষায় “সুবিধাজনক রক্ষা-কবচ”।

স্থানীয়রা বলছেন, কেন বাগমারায় কঠোর শাস্তি, আর গোদাগাড়ীতে হাতখুলে ছাড়?

অভিযোগ উঠেছে, বিদায়ী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওমর ফারুকের সুরক্ষার ফলেই নাজমুল আলম দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগের মুখেও বহাল তবিয়তে ছিলেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, বিতর্কের মধ্যেই বদলিকৃত কর্মকর্তা নাজমুল আলম ইতোমধ্যে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম খাদ্যগুদামে যোগদান করেছেন।

স্থানীয় সূত্র বলছে—বদলির পর যোগদানকে ঘিরেও নানান প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, কঠোর শাস্তির বদলে “সহজ একটি বদলি” তাঁকে ভবিষ্যৎ দায় থেকে আড়াল করার সুযোগ দিতে পারে।

বড়াইগ্রামে নাজমুল আলমের যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় খাদ্য ডিলার, গুদাম শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কেউ বলছেন—“যে কর্মকর্তাকে নিয়ে এত প্রশ্ন, তাঁকে এখানে দিলে আমরাও নিশ্চিন্ত নই।”

আবার কেউ মনে করছেন—“নতুন জায়গায় এলে হয়তো তিনি স্বচ্ছভাবে কাজ করতে চাইবেন।”

গোদাগাড়ী খাদ্যগুদামে চালের মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, বিভিন্ন ডিলারের সঙ্গে নাজমুল আলমের ‘অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

গোদাগাড়ী খাদ্যগুদামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের মান নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায়। অভিযোগ ছিল—চালে অতিরিক্ত খুদ, ভাঙা দানা, অর্ধসিদ্ধ চাল, বিবর্ণ দানা, চালের গুঁড়া, এমনকি দুর্গন্ধও পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাপা হয় ১৩.৮%। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ—চালের একটি বড় অংশে মরা দানা ও খুদ পাওয়া যায়, যা অনুমোদিত মানের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি।

ঘটনার দিন স্থানীয় সাংবাদিকরা গুদাম পরিদর্শনে গেলে ওসিএলএসডি নাজমুল আলম প্রবেশে বাধা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান—“জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া গুদামে প্রবেশ করা যাবে না। চাইলে একজন যেতে পারেন, তবে মোবাইল বা ক্যামেরা ছাড়া।”

এই আচরণে আরও সন্দেহ সৃষ্টি হয়। অনেকে মনে করেন, গণমাধ্যমকে দূরে রাখার চেষ্টা মানেই অনিয়ম আড়াল করার প্রক্রিয়া।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীও বলেন, “গুদামে প্রায় ৫ হাজার টন চাল ও ১১ টন গম আছে। দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে।”

স্থানীয় ডিলার সাইফুল ইসলামের কাছে সেদিনই ১৫ হাজার ২৭০ কেজি চাল হস্তান্তর করা হয়। একই সময়ে গুদামের ভেতর থেকে ট্রলি-ট্রাক-ট্রাক্টরে করে চাল সরানো হতে দেখা যায়। নিরাপত্তা প্রহরী মনিরুজ্জামানও স্বীকার করেন—“একটি ট্রাকের চাল পাঠানো হয়েছে, আরেকটি আসছে।” স্থানীয়দের ধারণা—নিম্নমানের চাল গোপনে সরিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছিল।

ঘটনার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল বলেন, গুদাম পরিদর্শনে তিনি চালকে “ভালো” পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই অবস্থান পুরো ঘটনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে শুধু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেই নয়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ধান–চাল সংগ্রহ মৌসুমে চলা ভয়াবহ অনিয়ম ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ পায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন,