ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধুপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সেমাজুল হকের বিরুদ্ধে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও জন্মনিবন্ধন সংশোধনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত  পীরগঞ্জে ৪২২ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী আটক মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত মানবিকতার জয়গান, রাজশাহীতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ঘোষণা বিরলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুফল ভোগীদের মাঝে ছাগল ও উপকরন বিতরণ বিরলে নোনাখাড়ি পুনঃ খননের উদ্বোধন পীরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউ টিন বিতরণ

শার্শার ডিহিতে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারনার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের শার্শার ১নং ডিহি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিলন হোসেন দীর্ঘদিন যাবত ডিহি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স , নাগরিক সনদ দেয়া এবং গুরুত্বপুর্ন কাজ তিনি করিয়ে দেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নিতেন অর্থ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ করে না দিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে প্রতারণা করতেন সাধারণ জনগনের সাথে। এজন্য এলাকায় তিনি চিটার মিলন নামে অধিক পরিচিত।

সম্প্রতি সময়ে জৈনক এক ব্যক্তির বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করাতে গেলে তাকে বলা হয় তাদের স্বামী স্ত্রী দুইজনের জন্মনিবন্ধন আগে করতে হবে। এর জন্য তাকে ২,৫০০ টাকা দিতে হবে । পরে কাজ করে দেয়ার শর্তে ওই ব্যক্তি টাকাও দেন মিলনকে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও ঐ ব্যক্তি তার জন্মনিবন্ধন গুলা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আবেদন করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলামের কাছে।

ঘটনা এখানেই শেষ নয় অন্য জৈনক আর এক ব্যক্তির সাথে মিলনের চুক্তি হয় জন্মনিবন্ধনে বয়স সংশোধন করে আইডি কার্ড করে দেয়ার। ঐ ব্যক্তির ভাষ্য মতে সে মিলনকে দিয়েছে ৪,৫০০ টাকা। এদিকে গর্ভবতী কার্ড করে দেয়ার জন্য বেলতা গ্রামের দুইটা পরিবারের কাছ থেকে নিয়েছেন ৭,০০০ হাজার টাকা। অনেক দিন পার হওয়ার পর যখন কার্ড করতে ব্যর্থ হন।

তখন মিলনের তার কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন ওই পরিবারের সদস্যরা। মিলন তাদের পরিবারের লোকজনকে সোনালী ব্যাংকের একটি চেক দেন । ওই চেকের পাতা নিয়ে ব্যাংকে গেলে দেখা যায় তার একাউন্টে কোন টাকা নেই। শেষে নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।

নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে জমা রাখা চারটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল এর আবেদনপত্র ও ৪০,০০০/- চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে শার্শার উদ্দ্যেশ্যে বের হন মিলন হোসেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত সে লাপাত্তা। তার কোন খোঁজখবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর আগেও সে দুই বার একই ধরনের প্রতারনার জন্য চাকরীচ্যুত হতে চলেছিলেন। তার পরিবারের কথা বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন বলে জানা যায়।

৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি করিমুল শেখ বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজের প্রতি আস্থা নষ্ট করে এবং নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। সরকারের উচিত এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জনগণের নিরাপত্তা ও সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে বিচারের মুখোমুখি করা ।

১নং ডিহি ইউনিয়ন দফাদার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন মানুষ এসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, যেহেতু প্রশাসক স্যার আমাদের অভিভাবক এজন্য সবাই কে আমি স্যারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। স্যার তাদের সাথে কথা বলেন। তবে এই ধরনের কাজ মিলন এর আগেও অনেকবার করেছে। তার কর্মকান্ডে সকল গ্রাম পুলিশের বদনাম হচ্ছে। আমি চাই স্যারেরা বিষয়টি দেখবেন।

ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলাম বলেন, আমরা মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি এবং নোটিশের মাধ্যমে তাকে ৭দিন সময় দেয়া হয়েছিলো উক্ত অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরেও সে অফিসে আসে নাই এবং আমাদের কোন জবাব সে দেয় নাই। পরবর্তীতে আমরা তার অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে এবং সে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে তাকে চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হতে পারে। বর্তমানে সে পলাতক আছে এবং তার বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শার্শার ডিহিতে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারনার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের শার্শার ১নং ডিহি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিলন হোসেন দীর্ঘদিন যাবত ডিহি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স , নাগরিক সনদ দেয়া এবং গুরুত্বপুর্ন কাজ তিনি করিয়ে দেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নিতেন অর্থ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ করে না দিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে প্রতারণা করতেন সাধারণ জনগনের সাথে। এজন্য এলাকায় তিনি চিটার মিলন নামে অধিক পরিচিত।

সম্প্রতি সময়ে জৈনক এক ব্যক্তির বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করাতে গেলে তাকে বলা হয় তাদের স্বামী স্ত্রী দুইজনের জন্মনিবন্ধন আগে করতে হবে। এর জন্য তাকে ২,৫০০ টাকা দিতে হবে । পরে কাজ করে দেয়ার শর্তে ওই ব্যক্তি টাকাও দেন মিলনকে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও ঐ ব্যক্তি তার জন্মনিবন্ধন গুলা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আবেদন করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলামের কাছে।

ঘটনা এখানেই শেষ নয় অন্য জৈনক আর এক ব্যক্তির সাথে মিলনের চুক্তি হয় জন্মনিবন্ধনে বয়স সংশোধন করে আইডি কার্ড করে দেয়ার। ঐ ব্যক্তির ভাষ্য মতে সে মিলনকে দিয়েছে ৪,৫০০ টাকা। এদিকে গর্ভবতী কার্ড করে দেয়ার জন্য বেলতা গ্রামের দুইটা পরিবারের কাছ থেকে নিয়েছেন ৭,০০০ হাজার টাকা। অনেক দিন পার হওয়ার পর যখন কার্ড করতে ব্যর্থ হন।

তখন মিলনের তার কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন ওই পরিবারের সদস্যরা। মিলন তাদের পরিবারের লোকজনকে সোনালী ব্যাংকের একটি চেক দেন । ওই চেকের পাতা নিয়ে ব্যাংকে গেলে দেখা যায় তার একাউন্টে কোন টাকা নেই। শেষে নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।

নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে জমা রাখা চারটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল এর আবেদনপত্র ও ৪০,০০০/- চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে শার্শার উদ্দ্যেশ্যে বের হন মিলন হোসেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত সে লাপাত্তা। তার কোন খোঁজখবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর আগেও সে দুই বার একই ধরনের প্রতারনার জন্য চাকরীচ্যুত হতে চলেছিলেন। তার পরিবারের কথা বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন বলে জানা যায়।

৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি করিমুল শেখ বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজের প্রতি আস্থা নষ্ট করে এবং নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। সরকারের উচিত এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জনগণের নিরাপত্তা ও সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে বিচারের মুখোমুখি করা ।

১নং ডিহি ইউনিয়ন দফাদার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন মানুষ এসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, যেহেতু প্রশাসক স্যার আমাদের অভিভাবক এজন্য সবাই কে আমি স্যারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। স্যার তাদের সাথে কথা বলেন। তবে এই ধরনের কাজ মিলন এর আগেও অনেকবার করেছে। তার কর্মকান্ডে সকল গ্রাম পুলিশের বদনাম হচ্ছে। আমি চাই স্যারেরা বিষয়টি দেখবেন।

ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নুর ইসলাম বলেন, আমরা মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি এবং নোটিশের মাধ্যমে তাকে ৭দিন সময় দেয়া হয়েছিলো উক্ত অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরেও সে অফিসে আসে নাই এবং আমাদের কোন জবাব সে দেয় নাই। পরবর্তীতে আমরা তার অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে এবং সে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে তাকে চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হতে পারে। বর্তমানে সে পলাতক আছে এবং তার বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।