ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রুয়েটের নিরাপত্তার দায়িত্বে ‘আ.লীগের দোসর’, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ কাভার করেছে বাংলাদেশের একমাত্র সংবাদমাধ্যম বিডিস্পোর্টসটাইম কঠোর পরিশ্রমে সাফল্য, মাসে লাখ টাকা আয় মাইনুলের ফটোগ্রাফিতে স্বপ্নীলের এক দশকের পথচলা ডিএমএফ’র সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মানিক ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস জিনিয়াসে চ্যাম্পিয়ন অর্ণবের ফ্যাশন টিম প্র্যাবের নতুন সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সরকারি রাস্তা দখল নিয়ে রাজশাহীতে সংঘর্ষ: গৃহবধূর অলংকার ছিনতাই ও কুপিয়ে জখমের হাইকোর্টের আদেশের পরও বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন ননদ ভাবী ইভেন্টসের উদ্যোক্তা মেলা উদ্বোধন করলেন বারিশা হক

রাজশাহীতে ব্যবসায়ী পরিবারকে ‘মিথ্যা মামলা ও হুমকির’ অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।

পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

​বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরমিনা আক্তার জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি ও ইটভাটা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

​আরমিনা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর চাচা শ্বশুর সাইফুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করছেন।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলামের বাসার সংলগ্ন চার কাঠা জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন ব্যবসায়ী আবুল কালাম। এই জমি বুঝে নেওয়ার সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম আবুল কালামের ওপর শারীরিক হামলা চালান, যাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।​ পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর আবুল কালামের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় একটি ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–৩১/৬৩৯)।​ একই দিনে আবুল কালামের মাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বেলীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–সি আর ০১/২০২৩)।

​আরমিনা আক্তার অভিযোগ করেন, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন সাইফুল।

তিনি বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমাদের। থানায় সহায়তা চাইতে গেলে আশানুরূপ সহযোগিতা মিলছে না, উল্টো থানার গেটেই আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”

​ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মূলত জমি ও অর্থ হাতিয়ে নিতে এবং পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি করতেই এই ধারাবাহিক হয়রানি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনো তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিনি। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক তথ্য আছে।”

​অন্যদিকে, গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাশির জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো তাঁদের কাছে আসেনি।

তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী চাইলে থানার সহায়তা নিতে পারেন। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​ভুক্তভোগী পরিবারটি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীতে ব্যবসায়ী পরিবারকে ‘মিথ্যা মামলা ও হুমকির’ অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।

পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

​বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরমিনা আক্তার জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি ও ইটভাটা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

​আরমিনা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর চাচা শ্বশুর সাইফুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করছেন।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলামের বাসার সংলগ্ন চার কাঠা জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন ব্যবসায়ী আবুল কালাম। এই জমি বুঝে নেওয়ার সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম আবুল কালামের ওপর শারীরিক হামলা চালান, যাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।​ পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর আবুল কালামের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় একটি ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–৩১/৬৩৯)।​ একই দিনে আবুল কালামের মাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বেলীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–সি আর ০১/২০২৩)।

​আরমিনা আক্তার অভিযোগ করেন, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন সাইফুল।

তিনি বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমাদের। থানায় সহায়তা চাইতে গেলে আশানুরূপ সহযোগিতা মিলছে না, উল্টো থানার গেটেই আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”

​ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মূলত জমি ও অর্থ হাতিয়ে নিতে এবং পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি করতেই এই ধারাবাহিক হয়রানি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনো তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিনি। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক তথ্য আছে।”

​অন্যদিকে, গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাশির জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো তাঁদের কাছে আসেনি।

তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী চাইলে থানার সহায়তা নিতে পারেন। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​ভুক্তভোগী পরিবারটি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।