ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধুপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সেমাজুল হকের বিরুদ্ধে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও জন্মনিবন্ধন সংশোধনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত  পীরগঞ্জে ৪২২ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী আটক মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত মানবিকতার জয়গান, রাজশাহীতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ঘোষণা বিরলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুফল ভোগীদের মাঝে ছাগল ও উপকরন বিতরণ বিরলে নোনাখাড়ি পুনঃ খননের উদ্বোধন পীরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউ টিন বিতরণ

তদন্তের নির্দেশ তামাদি, কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে স্বপদে অটল প্রকৌশলী শহিদুল

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি তদন্তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. শহিদুল আলম। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আইনি জটিলতার কারণে তাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

​স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই এক স্মারকে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র মো. আল মামুন খান ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা ১৪টি গুরুতর অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়।

অভিযোগে বলা হয়, পৌরসভার উন্নয়ন (এডিপি) ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অর্থ পিআইসি গঠন, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং কাজ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

​অভিযোগকারী পুঠিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাস্তবে কোনো কাজ না করে বা নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অনিয়মে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

​সরকারি চিঠিতে জেলা প্রশাসনকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। মাঠপর্যায়ে কোনো কমিটি গঠন, নথি জব্দ বা প্রকল্প পরিদর্শনের খবর পাওয়া যায়নি।
যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও এসেছে। তবে সেই নির্দেশনা কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

​সচেতন মহলের মতে, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পদে বহাল রাখা আইন পরিপন্থী। অথচ শহিদুল আলম এখনো স্বপদে থেকে পৌরসভার আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা তদন্তের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

​পুঠিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর বরাদ্দ এলেও রাস্তাঘাট বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। অনেক প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, আর্থিক সিদ্ধান্তে কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করলে চাপের মুখে পড়তে হয়।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. শহিদুল আলমকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​রাজশাহী জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা উপজেলা প্রশাসন বলতে পারবে।’

​পুঠিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক শিবু দাস (সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) তথ্য দিতে পারবেন।’

​পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না, কারণ আইন সেটি কাভার করে না। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তদন্তের নির্দেশ তামাদি, কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে স্বপদে অটল প্রকৌশলী শহিদুল

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি তদন্তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. শহিদুল আলম। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আইনি জটিলতার কারণে তাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

​স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই এক স্মারকে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র মো. আল মামুন খান ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা ১৪টি গুরুতর অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়।

অভিযোগে বলা হয়, পৌরসভার উন্নয়ন (এডিপি) ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অর্থ পিআইসি গঠন, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং কাজ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

​অভিযোগকারী পুঠিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাস্তবে কোনো কাজ না করে বা নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অনিয়মে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

​সরকারি চিঠিতে জেলা প্রশাসনকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। মাঠপর্যায়ে কোনো কমিটি গঠন, নথি জব্দ বা প্রকল্প পরিদর্শনের খবর পাওয়া যায়নি।
যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও এসেছে। তবে সেই নির্দেশনা কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

​সচেতন মহলের মতে, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পদে বহাল রাখা আইন পরিপন্থী। অথচ শহিদুল আলম এখনো স্বপদে থেকে পৌরসভার আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা তদন্তের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

​পুঠিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর বরাদ্দ এলেও রাস্তাঘাট বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। অনেক প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, আর্থিক সিদ্ধান্তে কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করলে চাপের মুখে পড়তে হয়।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. শহিদুল আলমকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​রাজশাহী জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা উপজেলা প্রশাসন বলতে পারবে।’

​পুঠিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক শিবু দাস (সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) তথ্য দিতে পারবেন।’

​পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না, কারণ আইন সেটি কাভার করে না। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’