ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাইকোর্টের আদেশের পরও বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন ননদ ভাবী ইভেন্টসের উদ্যোক্তা মেলা উদ্বোধন করলেন বারিশা হক প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন করছে ইছামতি মার্ট, রয়েছে অনলাইন ও আউটলেটভিত্তিক কার্যক্রম শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন মনিরুজ্জামান অপূর্ব অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছেন রশ্নি আয়াত অভিনয়ে ফিরেই ব্রাইডাল শুটে জারা মনি ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজস্ব পরিচয় গড়ার প্রত্যয়ে ফারহানা কামাল রায়েরবাগ থেকে মাদ্রাসাছাত্র রিয়ান নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ইভা ঐতিহ্যকে নতুন নকশায় তুলে ধরতে চান ফ্যাশন ডিজাইনার অর্ণব

হাইকোর্টের আদেশের পরও বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর বাগমারায় তিন ফসলি কৃষিজমিতে পুকুর খনন অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষিজমি রক্ষায় হাইকোর্টের আদেশ এবং প্রচলিত আইন থাকা সত্ত্বেও উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মৌজায় এক্সকাভেটর দিয়ে দিন-রাত মাটি কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরপুর মৌজায় কামারের ঘাট সেতু-সংলগ্ন মমিন কমিশনারের বাড়ির পাশে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা আবাদি জমিতে পুকুর খনন চলছে। নুরপুর এলাকার মজনু, হান্নান ও ওহাবের নেতৃত্বে এ খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খনন করা মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনের কারণে সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তাঘাটও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন অব্যাহত থাকলে তিন ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাবে। একই সঙ্গে আশপাশের জমির সেচব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৪৩৫৩/২০১৭-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ জারি হয়। সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর দাবি, ওই আদেশে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারীর আরও দাবি, আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে এবং আদেশটি এখনো কার্যকর রয়েছে। এরপরও পুকুর খনন অব্যাহত থাকার অভিযোগ ওঠায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিজমি সংরক্ষণ শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এটি খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষিনির্ভর মানুষের জীবিকার সঙ্গেও জড়িত। ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, মাটি পরিবহনের কারণে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ভোগান্তি ও আর্থিক দায়ও বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বাগমারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে পুকুর খনন বন্ধ, ঘটনাস্থল তদন্ত, প্রয়োজনীয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

কৃষিজমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা এবং ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাইকোর্ট এর আদেশ ও কৃষি জমির সুরক্ষার আইনগত বিধান থাকা সত্ত্বেও অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত করে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাইকোর্টের আদেশের পরও বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীর বাগমারায় তিন ফসলি কৃষিজমিতে পুকুর খনন অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষিজমি রক্ষায় হাইকোর্টের আদেশ এবং প্রচলিত আইন থাকা সত্ত্বেও উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মৌজায় এক্সকাভেটর দিয়ে দিন-রাত মাটি কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরপুর মৌজায় কামারের ঘাট সেতু-সংলগ্ন মমিন কমিশনারের বাড়ির পাশে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা আবাদি জমিতে পুকুর খনন চলছে। নুরপুর এলাকার মজনু, হান্নান ও ওহাবের নেতৃত্বে এ খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খনন করা মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনের কারণে সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তাঘাটও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন অব্যাহত থাকলে তিন ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাবে। একই সঙ্গে আশপাশের জমির সেচব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৪৩৫৩/২০১৭-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ জারি হয়। সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর দাবি, ওই আদেশে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারীর আরও দাবি, আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে এবং আদেশটি এখনো কার্যকর রয়েছে। এরপরও পুকুর খনন অব্যাহত থাকার অভিযোগ ওঠায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিজমি সংরক্ষণ শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এটি খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষিনির্ভর মানুষের জীবিকার সঙ্গেও জড়িত। ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, মাটি পরিবহনের কারণে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ভোগান্তি ও আর্থিক দায়ও বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বাগমারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে পুকুর খনন বন্ধ, ঘটনাস্থল তদন্ত, প্রয়োজনীয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

কৃষিজমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা এবং ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাইকোর্ট এর আদেশ ও কৃষি জমির সুরক্ষার আইনগত বিধান থাকা সত্ত্বেও অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত করে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে কি না।