ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধুপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সেমাজুল হকের বিরুদ্ধে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও জন্মনিবন্ধন সংশোধনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত  পীরগঞ্জে ৪২২ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী আটক মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত মানবিকতার জয়গান, রাজশাহীতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ঘোষণা বিরলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুফল ভোগীদের মাঝে ছাগল ও উপকরন বিতরণ বিরলে নোনাখাড়ি পুনঃ খননের উদ্বোধন পীরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউ টিন বিতরণ

কুষ্টিয়ায় এবারের জাতীয় পর্যায়ের লালন উৎসবে গাইলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বাউল রুমা 

আবু তারেক - বাঁধন
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের স্মরণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী লালন উৎসবে অংশ নিয়ে গান পরিবেশন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বাউল শিল্পী রুমা আক্তার। যিনি বাউল জগতে পরিচিত বাউল রুমা নামে। তাঁর প্রাণবন্ত কণ্ঠে পরিবেশিত লালনের ভাবগান শ্রোতা-দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।

লালনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের।

এবারের লালন উৎসব আয়োজন হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে। এতে দেশজুড়ে হাজারো বাউল, ফকির, সাধক ও লালনপ্রেমী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় ছেঁউড়িয়া। উৎসবের মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় লালনের মানবতাবাদ, প্রেম ও সাম্যের বাণীবাহী গান।

তিন দিনের এ উৎসবে বিভিন্ন জেলার বাউল শিল্পীরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে আগত বাউল রুমার পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। তিনি লালনের জনপ্রিয় গান “ গুরুগত না হইলে প্রেমের প্রেমিক না হইলে” ও “মানুষ ছাড়া ক্ষাপারে তুই মুল হারাবি মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” পরিবেশন করেন। তাঁর কণ্ঠ, সুর এবং উপস্থাপনা দর্শক-শ্রোতাদের মনোমুগ্ধ করে তোলে।

দর্শকদের মধ্যে অনেকে বলেন, বাউল রুমার কণ্ঠে লালনের গান শুনে মনে হয়েছে যেন লালনের দর্শন নতুনভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর পরিবেশনা কেবল সংগীত নয়, ছিল এক ধরনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।

বাউল রুমা সাংবাদিকদের বলেন, “লালনের গান আমার জীবনের দিশারি। তাঁর মানবধর্মের দর্শন আমার চিন্তাকে বদলে দিয়েছে। লালনের মঞ্চে গান গাওয়া আমার জন্য পরম সৌভাগ্য।”

তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগীতচর্চা শুরু করেন। ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্থানে লোকসংগীত চর্চার পাশাপাশি তিনি বাউল ধারা ধরে রাখছেন নিজের সাধনা ও সুরের মাধ্যমে।

উৎসবে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। লালন আশ্রমের চারপাশে বসে বাউলদের আড্ডা, গানের আসর ও পালাগানের আয়োজন। কেউ গাইছেন, কেউ শুনছেন—এমন দৃশ্যে মুখরিত পুরো ছেঁউড়িয়া।

লালন উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি মানবতার, ভালোবাসার ও সাম্যের এক মহা মিলনমেলা। সেই উৎসবের অংশ হয়ে বাউল রুমার সুরের ছোঁয়ায় উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুষ্টিয়ায় এবারের জাতীয় পর্যায়ের লালন উৎসবে গাইলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বাউল রুমা 

আপডেট সময় : ১২:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের স্মরণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী লালন উৎসবে অংশ নিয়ে গান পরিবেশন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বাউল শিল্পী রুমা আক্তার। যিনি বাউল জগতে পরিচিত বাউল রুমা নামে। তাঁর প্রাণবন্ত কণ্ঠে পরিবেশিত লালনের ভাবগান শ্রোতা-দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।

লালনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের।

এবারের লালন উৎসব আয়োজন হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে। এতে দেশজুড়ে হাজারো বাউল, ফকির, সাধক ও লালনপ্রেমী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় ছেঁউড়িয়া। উৎসবের মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় লালনের মানবতাবাদ, প্রেম ও সাম্যের বাণীবাহী গান।

তিন দিনের এ উৎসবে বিভিন্ন জেলার বাউল শিল্পীরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে আগত বাউল রুমার পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। তিনি লালনের জনপ্রিয় গান “ গুরুগত না হইলে প্রেমের প্রেমিক না হইলে” ও “মানুষ ছাড়া ক্ষাপারে তুই মুল হারাবি মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” পরিবেশন করেন। তাঁর কণ্ঠ, সুর এবং উপস্থাপনা দর্শক-শ্রোতাদের মনোমুগ্ধ করে তোলে।

দর্শকদের মধ্যে অনেকে বলেন, বাউল রুমার কণ্ঠে লালনের গান শুনে মনে হয়েছে যেন লালনের দর্শন নতুনভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর পরিবেশনা কেবল সংগীত নয়, ছিল এক ধরনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।

বাউল রুমা সাংবাদিকদের বলেন, “লালনের গান আমার জীবনের দিশারি। তাঁর মানবধর্মের দর্শন আমার চিন্তাকে বদলে দিয়েছে। লালনের মঞ্চে গান গাওয়া আমার জন্য পরম সৌভাগ্য।”

তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগীতচর্চা শুরু করেন। ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্থানে লোকসংগীত চর্চার পাশাপাশি তিনি বাউল ধারা ধরে রাখছেন নিজের সাধনা ও সুরের মাধ্যমে।

উৎসবে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। লালন আশ্রমের চারপাশে বসে বাউলদের আড্ডা, গানের আসর ও পালাগানের আয়োজন। কেউ গাইছেন, কেউ শুনছেন—এমন দৃশ্যে মুখরিত পুরো ছেঁউড়িয়া।

লালন উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি মানবতার, ভালোবাসার ও সাম্যের এক মহা মিলনমেলা। সেই উৎসবের অংশ হয়ে বাউল রুমার সুরের ছোঁয়ায় উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।