ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে শিবিরের বিরুদ্ধে দুই হোটেলে তাণ্ডবের অভিযোগ, থমথমে পরিস্থিতি বিএসএফ নিতে প্রস্তুত, আইনি জটিলতায় নিজ দেশে ফিরতে পারছে না চার ভারতীয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের সাথে রেডা নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহী নৃত্যশিল্পী ঐক্য জোটের রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারী তিন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ! কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রকৃত তথ্য জানাল সিটি কর্পোরেশন ​প্রতারণা মামলায় রাজশাহীতে কথিত সাংবাদিক চপল গ্রেফতার দুই মাসে ১৪ নির্যাতন, রাজশাহীতে নারী ও শিশু পরিস্থিতি হতাশাজনক বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হাসিনা আনছারের জন্মদিন

মানসম্মত কাজের মাধ্যমে দীর্ঘ পথচলার প্রত্যাশা স্বর্ণার

হৃদয় খান
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সমসাময়িক সংগীত অঙ্গনে নিজের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছেন তরুণ সংগীতশিল্পী সোনালী নওরিন স্বর্ণা। কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার এবং সুরকার—এই তিন পরিচয়েই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন সমানতালে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চায় নিবেদিত এই শিল্পী ইতিমধ্যে একাধিক চলচ্চিত্র ও মৌলিক গানে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
তার সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে সিনেমা “রং রোড”–এর জনপ্রিয় গান “আদরীর আদর”–এর টাইটেল ট্র্যাক, যা শ্রোতাদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি আলোচিত “আতরবিবি লেন” সিনেমার একটি আইটেম গানেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে। ভিন্ন ধাঁচের গানগুলোতে কণ্ঠ ও উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি নিজের আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
শুধু গায়িকা হিসেবেই নয়, স্বর্ণা একজন সক্রিয় গীতিকার ও সুরকারও। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ১২৯টি মৌলিক গান করেছেন করেছেন এবং নিজের লেখা ও সুর করা গানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৮টির কাছাকাছি। তার এই বিশাল সৃষ্টিশীল ভাণ্ডার থেকে ভবিষ্যতে নতুন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংগীতজীবনের শুরু নিয়ে তিনি জানান, বাবার সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার জীবনের অনুপ্রেরণা। বাবা নিজে শিল্পী হতে না পারলেও মেয়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই ছোটবেলা থেকে সংগীতচর্চার পথচলা শুরু হয় তার, যা এখন প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
প্রথম দিকের বড় মঞ্চে তার উপস্থিতি আসে চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ (২০০৯) প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বিজয় টেলিভিশনের “গানে গানে বিজয়” প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি প্রথম রানার্সআপ হন বলে জানা যায়। এই অর্জনই তাকে সংগীত অঙ্গনে আরও বেশি পরিচিতি এনে দেয়।

বর্তমানে তিনি সংগীতচর্চার পাশাপাশি শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি তে ফ্যাশন ডিজাইন ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করছেন, গান ও পড়ালেখা দুই ক্ষেত্রেই সমান মনোযোগ দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্বর্ণা বলেন, তিনি স্টেজ পারফরম্যান্সের চেয়ে নিজের মৌলিক গান ও সৃষ্টিশীল কাজের দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চান। ভাইরাল হওয়ার দৌড়ে না ছুটে মানসম্মত কাজের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চান তিনি।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে তার স্পষ্ট বার্তা, ভাইরাল হওয়ার পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতা ও কাজের মান উন্নত করো। টিকে থাকে ভালো কাজ, ক্ষণস্থায়ী আলো নয়।
নিজের লেখা ও সুর করা গানগুলো তিনি ধীরে ধীরে নতুন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের জন্য উন্মুক্ত করতে চান, যাতে নতুন মুখগুলোও সুযোগ পেয়ে এগিয়ে যেতে পারে সংগীতের মূলধারায়। সৃজনশীলতা, পরিশ্রম আর ভিন্নধর্মী ভাবনার মিশেলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিজেকে তুলে ধরার প্রত্যাশা রাখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মানসম্মত কাজের মাধ্যমে দীর্ঘ পথচলার প্রত্যাশা স্বর্ণার

আপডেট সময় : ১১:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সমসাময়িক সংগীত অঙ্গনে নিজের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছেন তরুণ সংগীতশিল্পী সোনালী নওরিন স্বর্ণা। কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার এবং সুরকার—এই তিন পরিচয়েই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন সমানতালে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চায় নিবেদিত এই শিল্পী ইতিমধ্যে একাধিক চলচ্চিত্র ও মৌলিক গানে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
তার সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে সিনেমা “রং রোড”–এর জনপ্রিয় গান “আদরীর আদর”–এর টাইটেল ট্র্যাক, যা শ্রোতাদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি আলোচিত “আতরবিবি লেন” সিনেমার একটি আইটেম গানেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে। ভিন্ন ধাঁচের গানগুলোতে কণ্ঠ ও উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি নিজের আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
শুধু গায়িকা হিসেবেই নয়, স্বর্ণা একজন সক্রিয় গীতিকার ও সুরকারও। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ১২৯টি মৌলিক গান করেছেন করেছেন এবং নিজের লেখা ও সুর করা গানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৮টির কাছাকাছি। তার এই বিশাল সৃষ্টিশীল ভাণ্ডার থেকে ভবিষ্যতে নতুন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংগীতজীবনের শুরু নিয়ে তিনি জানান, বাবার সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার জীবনের অনুপ্রেরণা। বাবা নিজে শিল্পী হতে না পারলেও মেয়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই ছোটবেলা থেকে সংগীতচর্চার পথচলা শুরু হয় তার, যা এখন প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
প্রথম দিকের বড় মঞ্চে তার উপস্থিতি আসে চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ (২০০৯) প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বিজয় টেলিভিশনের “গানে গানে বিজয়” প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি প্রথম রানার্সআপ হন বলে জানা যায়। এই অর্জনই তাকে সংগীত অঙ্গনে আরও বেশি পরিচিতি এনে দেয়।

বর্তমানে তিনি সংগীতচর্চার পাশাপাশি শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি তে ফ্যাশন ডিজাইন ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করছেন, গান ও পড়ালেখা দুই ক্ষেত্রেই সমান মনোযোগ দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্বর্ণা বলেন, তিনি স্টেজ পারফরম্যান্সের চেয়ে নিজের মৌলিক গান ও সৃষ্টিশীল কাজের দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চান। ভাইরাল হওয়ার দৌড়ে না ছুটে মানসম্মত কাজের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চান তিনি।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে তার স্পষ্ট বার্তা, ভাইরাল হওয়ার পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতা ও কাজের মান উন্নত করো। টিকে থাকে ভালো কাজ, ক্ষণস্থায়ী আলো নয়।
নিজের লেখা ও সুর করা গানগুলো তিনি ধীরে ধীরে নতুন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের জন্য উন্মুক্ত করতে চান, যাতে নতুন মুখগুলোও সুযোগ পেয়ে এগিয়ে যেতে পারে সংগীতের মূলধারায়। সৃজনশীলতা, পরিশ্রম আর ভিন্নধর্মী ভাবনার মিশেলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিজেকে তুলে ধরার প্রত্যাশা রাখছেন।