ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আফতাবনগর সোসাইটিতে আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগ ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল নিয়ে কর্মশালায় তপু খান ১৮৫ দেশ জয়: লাল-সবুজের পতাকা হাতে নতুন ইতিহাস গড়লেন নাজমুন নাহার অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সফল নওরিন ​বিএমডিএতে ফের জাহাঙ্গীর : জনস্বার্থে অপসারণের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন: শ্রমিক নেতা এয়াকুব বিজ্ঞাপন থেকে সিনেমা, সামিয়ার স্বপ্নের পথে নতুন বাঁক বুশরা গ্রুপে নিজের ৪ লক্ষ টাকা জমা, তবু সাংবাদিককে নবজাতকের হাসপাতাল বিল দিতে ধার! নাচই যার জীবনের সঙ্গী, পুরস্কারে সমৃদ্ধ কেয়ার পথচলা মায়ের হাত ধরে নাচ, কার্টুনের কণ্ঠ থেকে ভয়েসওভার: জয়িতার গল্প

বিজ্ঞাপন থেকে নাটক—বহুমুখী কাজে নির্জন মমিন

বিনোদন প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে বডি শেমিং একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর সামাজিক বাস্তবতা। আর সেই বাস্তবতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব কণ্ঠ একজন অভিনেত্রী ও স্ক্রিপ্ট রাইটার—নির্জন মমিন।

স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের অধিকারী একজন মানুষ হয়েও ২০০৯ সাল থেকে থাইরয়েড ও হরমোনজনিত জটিলতায় তার ওজন বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে একাধিক দুর্ঘটনা ও মেজর সার্জারির কারণে ওজন আরও বৃদ্ধি পায়। সেই সময়েই তিনি উপলব্ধি করেন—এই সমাজে একজন মানুষের গুণ, অর্জন কিংবা যোগ্যতার চেয়ে তার শরীরের গড়নই বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ওজন বাড়ার পর থেকেই শুরু হয় অব্যাহত বডি শেমিং। না জেনেই অনেকেই ধরে নেয়, অতিরিক্ত খাবারই তার ওজন বৃদ্ধির কারণ। বাস্তবতা না বুঝে কটুক্তি আর হাসির নামে অপমান—যা একজন মানুষের মানসিক ক্ষত গভীর করে তোলে।
কর্পোরেট জগতে কাজ করার পাশাপাশি ২০২০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করে আসছেন নির্জন মমিন। এ সময়ের মধ্যে তিনি অসংখ্য একক ও ধারাবাহিক নাটক, টেলিফিল্মে কাজ করেছেন এবং পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের প্রতিটি কাজেই তিনি নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যেন শরীরের গড়ন নয়—তার অভিনয় দক্ষতাই হয়ে ওঠে পরিচয়ের মূল জায়গা।। কারণ দেশের মিডিয়ায় এখনো প্রচলিত ধারণা—মোটা অভিনেতা বা অভিনেত্রী মানেই কমেডি চরিত্র, অপ্রয়োজনীয় হাস্যরস, খাবারের দৃশ্য কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন—একজন মানুষের জীবন কি শুধু মোটা-শুকনোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? এই মানুষগুলোর কি কোনো গল্প নেই?
২০২২ সালে প্লাস সাইজ মানুষদের আত্মমর্যাদা ও সৌন্দর্য তুলে ধরতে আয়োজিত ‘মিস অ্যান্ড মিসেস প্লাস বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানারআপ হন নির্জন মমিন। এটি ছিল তার আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক অবস্থানের একটি শক্ত বার্তা।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত স্ক্রিপ্ট লেখেন। লেখালেখি তার রক্তে—তার বাবা প্রয়াত কমল মমিন ছিলেন একজন লেখক, কবি ও সাংবাদিক। বর্তমানে মিডিয়ার কাজের পাশাপাশি তিনি স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত।
গত এক মাসে তিনি চারটি নাটকে অভিনয় করেছেন এবং দুটি নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। এর মধ্যে একটি নাটক ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে, বাকি নাটকগুলো খুব শীঘ্রই টেলিভিশন পর্দায় প্রচারিত হবে।
নির্জন মমিনের স্বপ্ন—তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত হতে চান। দর্শক যেন তাকে বিচার করে তার অভিনয় দিয়ে, শরীরের গড়ন দিয়ে নয়। তিনি চান, কমেডি চরিত্রে আটকে না থেকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজের অভিনয় ক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে।

নির্জন মমিন মনে করেন, আমরা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। তিনি যেভাবে আমাদের তৈরি করেছেন, সেইভাবেই আমরা সুন্দর। অন্যকে ছোট করার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই।
তার এই অবস্থান শুধু ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং সমাজে মানবিকতা, সহানুভূতি ও সম্মানের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক দৃঢ় প্রয়াস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিজ্ঞাপন থেকে নাটক—বহুমুখী কাজে নির্জন মমিন

আপডেট সময় : ০১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে বডি শেমিং একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর সামাজিক বাস্তবতা। আর সেই বাস্তবতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব কণ্ঠ একজন অভিনেত্রী ও স্ক্রিপ্ট রাইটার—নির্জন মমিন।

স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের অধিকারী একজন মানুষ হয়েও ২০০৯ সাল থেকে থাইরয়েড ও হরমোনজনিত জটিলতায় তার ওজন বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে একাধিক দুর্ঘটনা ও মেজর সার্জারির কারণে ওজন আরও বৃদ্ধি পায়। সেই সময়েই তিনি উপলব্ধি করেন—এই সমাজে একজন মানুষের গুণ, অর্জন কিংবা যোগ্যতার চেয়ে তার শরীরের গড়নই বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ওজন বাড়ার পর থেকেই শুরু হয় অব্যাহত বডি শেমিং। না জেনেই অনেকেই ধরে নেয়, অতিরিক্ত খাবারই তার ওজন বৃদ্ধির কারণ। বাস্তবতা না বুঝে কটুক্তি আর হাসির নামে অপমান—যা একজন মানুষের মানসিক ক্ষত গভীর করে তোলে।
কর্পোরেট জগতে কাজ করার পাশাপাশি ২০২০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করে আসছেন নির্জন মমিন। এ সময়ের মধ্যে তিনি অসংখ্য একক ও ধারাবাহিক নাটক, টেলিফিল্মে কাজ করেছেন এবং পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের প্রতিটি কাজেই তিনি নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যেন শরীরের গড়ন নয়—তার অভিনয় দক্ষতাই হয়ে ওঠে পরিচয়ের মূল জায়গা।। কারণ দেশের মিডিয়ায় এখনো প্রচলিত ধারণা—মোটা অভিনেতা বা অভিনেত্রী মানেই কমেডি চরিত্র, অপ্রয়োজনীয় হাস্যরস, খাবারের দৃশ্য কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন—একজন মানুষের জীবন কি শুধু মোটা-শুকনোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? এই মানুষগুলোর কি কোনো গল্প নেই?
২০২২ সালে প্লাস সাইজ মানুষদের আত্মমর্যাদা ও সৌন্দর্য তুলে ধরতে আয়োজিত ‘মিস অ্যান্ড মিসেস প্লাস বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানারআপ হন নির্জন মমিন। এটি ছিল তার আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক অবস্থানের একটি শক্ত বার্তা।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত স্ক্রিপ্ট লেখেন। লেখালেখি তার রক্তে—তার বাবা প্রয়াত কমল মমিন ছিলেন একজন লেখক, কবি ও সাংবাদিক। বর্তমানে মিডিয়ার কাজের পাশাপাশি তিনি স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত।
গত এক মাসে তিনি চারটি নাটকে অভিনয় করেছেন এবং দুটি নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। এর মধ্যে একটি নাটক ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে, বাকি নাটকগুলো খুব শীঘ্রই টেলিভিশন পর্দায় প্রচারিত হবে।
নির্জন মমিনের স্বপ্ন—তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত হতে চান। দর্শক যেন তাকে বিচার করে তার অভিনয় দিয়ে, শরীরের গড়ন দিয়ে নয়। তিনি চান, কমেডি চরিত্রে আটকে না থেকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজের অভিনয় ক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে।

নির্জন মমিন মনে করেন, আমরা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। তিনি যেভাবে আমাদের তৈরি করেছেন, সেইভাবেই আমরা সুন্দর। অন্যকে ছোট করার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই।
তার এই অবস্থান শুধু ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং সমাজে মানবিকতা, সহানুভূতি ও সম্মানের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক দৃঢ় প্রয়াস।