ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সফল নওরিন ​বিএমডিএতে ফের জাহাঙ্গীর : জনস্বার্থে অপসারণের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন: শ্রমিক নেতা এয়াকুব বিজ্ঞাপন থেকে সিনেমা, সামিয়ার স্বপ্নের পথে নতুন বাঁক বুশরা গ্রুপে নিজের ৪ লক্ষ টাকা জমা, তবু সাংবাদিককে নবজাতকের হাসপাতাল বিল দিতে ধার! নাচই যার জীবনের সঙ্গী, পুরস্কারে সমৃদ্ধ কেয়ার পথচলা মায়ের হাত ধরে নাচ, কার্টুনের কণ্ঠ থেকে ভয়েসওভার: জয়িতার গল্প জিম্মি বন্দি, বাধ্য স্বজন : রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী রাসেলের ত্রাস অল্প বয়সেই একের পর এক সাফল্য, আইপা অ্যাওয়ার্ড জিতল আনাহিতা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের গল্প নিয়ে নিউইয়র্কে ‘বিশ্বাস করেন ভাই’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সাবেক মেয়র বুলবুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান নগরবাসীর। তাঁদের দাবি, অতীত অভিজ্ঞতা ও নগর উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলে চলমান ও অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো নতুন গতি পাবে।

​দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বুলবুল প্রথমবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন। সে সময় তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে তিনি প্রার্থী হলেও তৎকালীন প্রতিকূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জয়ী হতে পারেননি।

সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম সারির অনেক নেতা কারাবন্দি থাকায় এবং নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ফলাফল অনুকূলে আসেনি। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ অটুট রেখেছিলেন।

​পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আধুনিক রাজশাহীর রূপকার হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
​তাঁর মেয়াদকালে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে তাঁর গৃহীত পরিকল্পনাগুলো সে সময় নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছিল বলে মনে করেন অনেক নাগরিক।

​বুলবুলের সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। তাঁর বিরুদ্ধে সে সময় অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৫ সালের ২ মার্চ তাঁর বাসভবনে পুলিশের অভিযান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

​বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও রাজপাড়া থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি শাহানুর ইসলাম মিঠু বলেন, ​“বুলবুল ভাই একজন পরীক্ষিত নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। তিনি মেয়র থাকাকালে রাজশাহীতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে আমরা তাঁকেই প্রশাসক হিসেবে চাই। তাঁর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, আমি জনগণের রাজনীতি করি এবং নিজেকে জনগণের সেবক মনে করি। আমাদের নেতা তারেক রহমান যদি মনে করেন আমি যোগ্য, তবে তিনি যে দায়িত্ব দেবেন তা পালন করতে আমি সদা প্রস্তুত।

​রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাজশাহীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ হিসেবে বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলে নগরীর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আগামীর নেতৃত্ব। নগরবাসী এখন সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সাবেক মেয়র বুলবুল

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান নগরবাসীর। তাঁদের দাবি, অতীত অভিজ্ঞতা ও নগর উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলে চলমান ও অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো নতুন গতি পাবে।

​দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বুলবুল প্রথমবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন। সে সময় তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে তিনি প্রার্থী হলেও তৎকালীন প্রতিকূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জয়ী হতে পারেননি।

সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম সারির অনেক নেতা কারাবন্দি থাকায় এবং নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ফলাফল অনুকূলে আসেনি। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ অটুট রেখেছিলেন।

​পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আধুনিক রাজশাহীর রূপকার হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
​তাঁর মেয়াদকালে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে তাঁর গৃহীত পরিকল্পনাগুলো সে সময় নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছিল বলে মনে করেন অনেক নাগরিক।

​বুলবুলের সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। তাঁর বিরুদ্ধে সে সময় অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৫ সালের ২ মার্চ তাঁর বাসভবনে পুলিশের অভিযান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

​বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও রাজপাড়া থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি শাহানুর ইসলাম মিঠু বলেন, ​“বুলবুল ভাই একজন পরীক্ষিত নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। তিনি মেয়র থাকাকালে রাজশাহীতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে আমরা তাঁকেই প্রশাসক হিসেবে চাই। তাঁর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, আমি জনগণের রাজনীতি করি এবং নিজেকে জনগণের সেবক মনে করি। আমাদের নেতা তারেক রহমান যদি মনে করেন আমি যোগ্য, তবে তিনি যে দায়িত্ব দেবেন তা পালন করতে আমি সদা প্রস্তুত।

​রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাজশাহীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ হিসেবে বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলে নগরীর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আগামীর নেতৃত্ব। নগরবাসী এখন সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।