ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উন্মুক্ত টেন্ডারের নামে জালিয়াতি করে হাট বরাদ্দের অভিযোগ ! ‘আতরবিবিলেন’-এর নতুন গানে কণ্ঠে মুগ্ধতা আনলেন স্বর্ণা ১৫০ কর্মী নিয়ে ফেন্সি লিমিটেডের দিনব্যাপী আনন্দ আয়োজন ​মাদক বিক্রি ও বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করার অভিযোগ গোদাগাড়ীর এসআইয়ের বিরুদ্ধে ​রাজশাহীতে হোটেল মালিককে হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা গান আর উপস্থাপনায় সমান দক্ষতা, নতুন রূপে তাসমিম জামান স্বর্ণা সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ভারতের নতুন অবস্থান, বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ রাজশাহীতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা-ও রক্তাক্ত, পুরোনো শত্রুতার জেরে হামলার অভিযোগ অল্প সময়েই কোটিপতি: কে এই মাহবুব, কী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ? একের পর এক আন্তর্জাতিক সম্মাননায় উজ্জ্বল শাম্মী তুলতুল

উন্মুক্ত টেন্ডারের নামে জালিয়াতি করে হাট বরাদ্দের অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন মোট ২৮টি পশুর হাট বসাচ্ছে ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে । এর মাঝে উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১৬টি আর দক্ষিণে ১২ টি হাট সাজবে কুরবানির পশুতে। হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অমোঘ বাণী আওড়ে ছিলেন দুই কর্পোরেশনের প্রশাসকই। তারই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চারটি হাটের ইজারা ও উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে হাট বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এর মাঝে শুরুতেই পশুর হাটের টেন্ডার নিয়ে রাজধানীর আন্ডার ওয়ার্ল্ডে ঘটে গেছে রক্তপাতের ঘটনা। নিহত হয়েছে টিটন । নাম উঠে এসেছে শীর্ষ সব সন্ত্রাসীদের।

এরপর পরই অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় দুই সিটির হাট বরাদ্দের ইস্যূটি। বৃহস্পতিবার সিটি উত্তর সিটি করপোরেশনে ইজারা জমার আগ থেকে নানান গুঞ্জনে সরব হয় উত্তর নগর ভবন।

ইজারা অংশ নেয়াদের অভিযোগের আঙুল সম্পদ শাখার প্রধানের দিকে। জানা যায় ইজারা প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই আশপাশের প্রভাবশালী চক্রের কেউ কেউ তত্ত্ববধায়ক শাসন আমলে কামানো কালো টাকা সাদা করতে মরিয়া হাটের টেন্ডার নিতে। তারা কোনো মাসল পাওয়ার নয় বেছে নেবে বাড়তি রেটে হাটের ইজারা।

দুপুর একটায় টেন্ডার জমা শেষের পর নির্ধারিত সময়েও টেন্ডার বাক্স না খোলায় সন্দেহের গুড় দানা বাঁধতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টেন্ডার বাক্স খোলা হলে অংশ নেয়াদের কয়েকগুণ বেশি রেটে হাটের ডাকে অংশ নেয়ায় শুরু হয় গুঞ্জন।

অভিযোগ ওঠে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে হাট বরাদ্দের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে একটি মহলের পছন্দমতো হাট বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে উত্তর সিটির পুরানো এক চক্র। এই দিন উত্তর সিটির চারটি হাটের মধ্যে একটি হাট, যা বড়ো বেরাইদ নামে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় অবস্থিত সিটি কর্পোরেশন এর ইজারা মূল্য নির্ধারণ করে এক কোটি টাকা। তবে এই ডাকে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হেঁকে বসেছেন পাঁচ কোটি টাকারও উপড়ে।

তাৎক্ষণিক রব উঠে আলোচিত এক ব্যবসায়ী, যিনি উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ, তারই প্রতিষ্ঠান পেয়েছে এই হাটের ডাক। পুরানো হাটের ইজারাদারগণ জানান ডাক পাওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জমা দেওয়ার পে অর্ডারটি নিয়ম মাফিক সরকারী ঘোষনা বা অনলাইনে গেজেট না হওয়ায় আভ্যন্তরীন নিকোর মাধ্যমে পরবর্তীতে কমিয়ে দেয়া হবে।

উন্মুক্ত ইজারার মাধ্যমে দুপুর ২টা ৩০মিনিটে হাট বরাদ্দের কথা থাকলেও এক ঘন্টারও অধিক সময় বিলম্বের বিষয়টিও ইজারায় জ্বালিয়াতির প্রক্রিয়া হিসেবে মনে করছেন ডাকে অংশ নেয়া অনেকেই।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আর একটি হাট বাড্ডা থানার অন্তর্গত স্বদেশ প্রোপার্টির খালি যায়গায় অবস্থিত সিটি কর্পোরেশন সেটির নির্ধারিত টেন্ডার মূল্য ধার্য ছিলো পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। সেটিও নির্ধারিত টাকার অঙ্কের চাইতে প্রায় পাঁচ গুণের অধিক বেশি দরে দুই কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকায় বরাদ্দ চাওয়া হয়। এই মূল্যেই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তুহিনুর ইসলাম সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন।

এই টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী আরেক প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মেহেদী মাসুদ রানা আফসোস করে বলেন, কালো টাকার দৌরাত্ম্য ও প্রহসনের কাছে আমরা হেরে গেলাম। তবে কালো টাকার প্রভাব পরবে পশুর দামের উপর আর কাটবে ক্রেতার পকেট। তিনি বলেন, টেন্ডারটির নির্ধারিত মূল্য ছিলো পঞ্চাশ লক্ষ টাকা, কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সর্বোচ্চ দরদাতা এখানে কালো টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

অন্যদিকে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী ইজারাদার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াতে অস্বচ্ছতার দাবি তুলে বলেন, এই ইজারা বাতিল করে পুনরায় ইজারার ব্যবস্থা না করা হলে পশুর হাটে নাভি : শ্বাস উঠবে কোরবানিদাতাদের।

অভিযোগের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি শাখার প্রধান মোহম্মদ শওকত ওসমানকে প্রশ্ন করা হলে ইজারার আগে তার কার্যালয়ে টেন্ডারে অংশ নেয়া বিশেষ কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সাথে একাধিক বার রুদ্ধদ্বার বৈঠরে অভিযোগটি অস্বিকার করেন। ইন্টারভিউ নিতে হবে
টেন্ডারের দীর্ঘ সূত্রিতার বিষয়ে মারুফাবেগম নেলি বলেন, ইন্টারভিউ নিতে হবে

টেন্ডারের সাথে জমা হওয়া পে অর্ডারের অংক পরবর্তীতে পরিবর্তনের কোন বিধান বা সুযোগ নেই বলে দাবি করেন ডিএসসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

উন্মুক্ত টেন্ডারের নামে জালিয়াতি করে হাট বরাদ্দের অভিযোগ !

আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন মোট ২৮টি পশুর হাট বসাচ্ছে ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে । এর মাঝে উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১৬টি আর দক্ষিণে ১২ টি হাট সাজবে কুরবানির পশুতে। হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অমোঘ বাণী আওড়ে ছিলেন দুই কর্পোরেশনের প্রশাসকই। তারই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চারটি হাটের ইজারা ও উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে হাট বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এর মাঝে শুরুতেই পশুর হাটের টেন্ডার নিয়ে রাজধানীর আন্ডার ওয়ার্ল্ডে ঘটে গেছে রক্তপাতের ঘটনা। নিহত হয়েছে টিটন । নাম উঠে এসেছে শীর্ষ সব সন্ত্রাসীদের।

এরপর পরই অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় দুই সিটির হাট বরাদ্দের ইস্যূটি। বৃহস্পতিবার সিটি উত্তর সিটি করপোরেশনে ইজারা জমার আগ থেকে নানান গুঞ্জনে সরব হয় উত্তর নগর ভবন।

ইজারা অংশ নেয়াদের অভিযোগের আঙুল সম্পদ শাখার প্রধানের দিকে। জানা যায় ইজারা প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই আশপাশের প্রভাবশালী চক্রের কেউ কেউ তত্ত্ববধায়ক শাসন আমলে কামানো কালো টাকা সাদা করতে মরিয়া হাটের টেন্ডার নিতে। তারা কোনো মাসল পাওয়ার নয় বেছে নেবে বাড়তি রেটে হাটের ইজারা।

দুপুর একটায় টেন্ডার জমা শেষের পর নির্ধারিত সময়েও টেন্ডার বাক্স না খোলায় সন্দেহের গুড় দানা বাঁধতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টেন্ডার বাক্স খোলা হলে অংশ নেয়াদের কয়েকগুণ বেশি রেটে হাটের ডাকে অংশ নেয়ায় শুরু হয় গুঞ্জন।

অভিযোগ ওঠে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে হাট বরাদ্দের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে একটি মহলের পছন্দমতো হাট বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে উত্তর সিটির পুরানো এক চক্র। এই দিন উত্তর সিটির চারটি হাটের মধ্যে একটি হাট, যা বড়ো বেরাইদ নামে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় অবস্থিত সিটি কর্পোরেশন এর ইজারা মূল্য নির্ধারণ করে এক কোটি টাকা। তবে এই ডাকে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হেঁকে বসেছেন পাঁচ কোটি টাকারও উপড়ে।

তাৎক্ষণিক রব উঠে আলোচিত এক ব্যবসায়ী, যিনি উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ, তারই প্রতিষ্ঠান পেয়েছে এই হাটের ডাক। পুরানো হাটের ইজারাদারগণ জানান ডাক পাওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জমা দেওয়ার পে অর্ডারটি নিয়ম মাফিক সরকারী ঘোষনা বা অনলাইনে গেজেট না হওয়ায় আভ্যন্তরীন নিকোর মাধ্যমে পরবর্তীতে কমিয়ে দেয়া হবে।

উন্মুক্ত ইজারার মাধ্যমে দুপুর ২টা ৩০মিনিটে হাট বরাদ্দের কথা থাকলেও এক ঘন্টারও অধিক সময় বিলম্বের বিষয়টিও ইজারায় জ্বালিয়াতির প্রক্রিয়া হিসেবে মনে করছেন ডাকে অংশ নেয়া অনেকেই।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আর একটি হাট বাড্ডা থানার অন্তর্গত স্বদেশ প্রোপার্টির খালি যায়গায় অবস্থিত সিটি কর্পোরেশন সেটির নির্ধারিত টেন্ডার মূল্য ধার্য ছিলো পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। সেটিও নির্ধারিত টাকার অঙ্কের চাইতে প্রায় পাঁচ গুণের অধিক বেশি দরে দুই কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকায় বরাদ্দ চাওয়া হয়। এই মূল্যেই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তুহিনুর ইসলাম সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন।

এই টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী আরেক প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মেহেদী মাসুদ রানা আফসোস করে বলেন, কালো টাকার দৌরাত্ম্য ও প্রহসনের কাছে আমরা হেরে গেলাম। তবে কালো টাকার প্রভাব পরবে পশুর দামের উপর আর কাটবে ক্রেতার পকেট। তিনি বলেন, টেন্ডারটির নির্ধারিত মূল্য ছিলো পঞ্চাশ লক্ষ টাকা, কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সর্বোচ্চ দরদাতা এখানে কালো টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

অন্যদিকে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী ইজারাদার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াতে অস্বচ্ছতার দাবি তুলে বলেন, এই ইজারা বাতিল করে পুনরায় ইজারার ব্যবস্থা না করা হলে পশুর হাটে নাভি : শ্বাস উঠবে কোরবানিদাতাদের।

অভিযোগের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি শাখার প্রধান মোহম্মদ শওকত ওসমানকে প্রশ্ন করা হলে ইজারার আগে তার কার্যালয়ে টেন্ডারে অংশ নেয়া বিশেষ কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সাথে একাধিক বার রুদ্ধদ্বার বৈঠরে অভিযোগটি অস্বিকার করেন। ইন্টারভিউ নিতে হবে
টেন্ডারের দীর্ঘ সূত্রিতার বিষয়ে মারুফাবেগম নেলি বলেন, ইন্টারভিউ নিতে হবে

টেন্ডারের সাথে জমা হওয়া পে অর্ডারের অংক পরবর্তীতে পরিবর্তনের কোন বিধান বা সুযোগ নেই বলে দাবি করেন ডিএসসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।