ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
​গোদাগাড়ীতে স্কুল-কলেজ দখল ও সরকারি জমি নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে মাদক নিরাময় কেন্দ্র বন্ধের চেষ্টা ও উচ্ছেদের আলটিমেটাম বেনাপোল-চৌগাছা সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ বেনাপোল সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও অবৈধ চোরাচালানী মালামালসহ আটক-২ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতার প্রতিবাদে কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল রাজশাহীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার বেনাপোলে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক-৩ কালিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ রাজশাহীতে শিবিরের বিরুদ্ধে দুই হোটেলে তাণ্ডবের অভিযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

​মাদক বিক্রি ও বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করার অভিযোগ গোদাগাড়ীর এসআইয়ের বিরুদ্ধে

রাজশাহী প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত হেরোইন সরিয়ে বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্মে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা।

​সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক সক্রান্ত। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসআই জুয়েল মাদকসহ আসামি ধরার পর আসল মাদক সরিয়ে সেখানে নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু দিয়ে চালান দেন। গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম মাদকসহ আলিয়ারা বেগম নামের এক নারীকে আটক করা হয়। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (জিআর নং-১০৯) হলেও নেপথ্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

​অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম হেরোইনের মধ্যে ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। বাকি ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে অবশিষ্ট অংশে মাদক সদৃশ বস্তু যোগ করে জব্দ তালিকায় দেখানো হয়।

থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এসআই জুয়েলের কাছে উদ্ধারকৃত আসল মাদক বিক্রি করে দেওয়া একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​শুধু মাদক নয়, ফসলি জমির টপসয়েল (ওপরিভাগের মাটি) নিধন সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানান, তিনি নিয়মিত থানায় গিয়ে এসআই জুয়েলকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে দেন। তবে থানার বর্তমান ওসির সাথে এ বিষয়ে কোনো লেনদেন হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া উপজেলার সাফিনা পার্ক থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

​ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে আনেন এসআই জুয়েল। এরপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। যারা তার দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের নানাভাবে হয়রানি ও মামলার ভয় দেখানো হয়।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ​”এ ধরনের কোনো বিষয় বা অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

​মাদক বিক্রি ও বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করার অভিযোগ গোদাগাড়ীর এসআইয়ের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত হেরোইন সরিয়ে বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্মে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা।

​সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক সক্রান্ত। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসআই জুয়েল মাদকসহ আসামি ধরার পর আসল মাদক সরিয়ে সেখানে নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু দিয়ে চালান দেন। গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম মাদকসহ আলিয়ারা বেগম নামের এক নারীকে আটক করা হয়। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (জিআর নং-১০৯) হলেও নেপথ্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

​অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম হেরোইনের মধ্যে ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। বাকি ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে অবশিষ্ট অংশে মাদক সদৃশ বস্তু যোগ করে জব্দ তালিকায় দেখানো হয়।

থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এসআই জুয়েলের কাছে উদ্ধারকৃত আসল মাদক বিক্রি করে দেওয়া একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​শুধু মাদক নয়, ফসলি জমির টপসয়েল (ওপরিভাগের মাটি) নিধন সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানান, তিনি নিয়মিত থানায় গিয়ে এসআই জুয়েলকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে দেন। তবে থানার বর্তমান ওসির সাথে এ বিষয়ে কোনো লেনদেন হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া উপজেলার সাফিনা পার্ক থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

​ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে আনেন এসআই জুয়েল। এরপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। যারা তার দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের নানাভাবে হয়রানি ও মামলার ভয় দেখানো হয়।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ​”এ ধরনের কোনো বিষয় বা অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।