ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
​গোদাগাড়ীতে স্কুল-কলেজ দখল ও সরকারি জমি নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে মাদক নিরাময় কেন্দ্র বন্ধের চেষ্টা ও উচ্ছেদের আলটিমেটাম বেনাপোল-চৌগাছা সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ বেনাপোল সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও অবৈধ চোরাচালানী মালামালসহ আটক-২ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতার প্রতিবাদে কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল রাজশাহীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার বেনাপোলে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক-৩ কালিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ রাজশাহীতে শিবিরের বিরুদ্ধে দুই হোটেলে তাণ্ডবের অভিযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

গোদাগাড়ী প্রেসক্লাবে জুলাই যোদ্ধাদের তালা, সওজের জায়গা উদ্ধারের দাবি

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৯০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এই দাবি করেন তারা।

​শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিযোগটি জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সেক্রেটারি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ মো. মুরশালিন।

এর আগে দুপুরে শিক্ষার্থীরা প্রেসক্লাবটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকরা সেই তালা কেটে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।

​লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম বিতর্ক ও অসন্তোষ ছিল। ক্লাবটি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার বদলে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছে এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে প্রেসক্লাবের ব্যানারে কিছু ব্যক্তি পুনরায় আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

​জুলাই যোদ্ধা মুরশালিন বলেন, “গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবটি আওয়ামী আমলে আয়নাঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তৎকালীন সভাপতি ও জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক আলমগীর কবির তোতা সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর প্রশ্রয়ে ক্লাবটিকে টর্চার সেলে রূপান্তর করেছিলেন। জনগণের ওপর অন্যায়-জুলুম করা হতো সেখানে। পতিত সরকারের সেই প্রেতাত্মারা আবারও একই ব্যানারে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।”

​এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার সদস্য সচিব মো. রহমতুল্লাহ জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, “প্রেসক্লাবটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। এই বিতর্কিত জায়গাটি কোনো সংগঠনের নামে না রেখে সেখানে যাত্রী ছাউনি অথবা পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।”

​এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাৎ রত্ন বলেন, “ছাত্রদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সাংবাদিকরা কেন বিতর্কিত কার্যালয়টি খুলেছেন, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গোদাগাড়ী প্রেসক্লাবে জুলাই যোদ্ধাদের তালা, সওজের জায়গা উদ্ধারের দাবি

আপডেট সময় : ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এই দাবি করেন তারা।

​শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিযোগটি জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সেক্রেটারি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ মো. মুরশালিন।

এর আগে দুপুরে শিক্ষার্থীরা প্রেসক্লাবটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকরা সেই তালা কেটে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।

​লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম বিতর্ক ও অসন্তোষ ছিল। ক্লাবটি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার বদলে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছে এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে প্রেসক্লাবের ব্যানারে কিছু ব্যক্তি পুনরায় আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

​জুলাই যোদ্ধা মুরশালিন বলেন, “গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবটি আওয়ামী আমলে আয়নাঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তৎকালীন সভাপতি ও জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক আলমগীর কবির তোতা সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর প্রশ্রয়ে ক্লাবটিকে টর্চার সেলে রূপান্তর করেছিলেন। জনগণের ওপর অন্যায়-জুলুম করা হতো সেখানে। পতিত সরকারের সেই প্রেতাত্মারা আবারও একই ব্যানারে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।”

​এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার সদস্য সচিব মো. রহমতুল্লাহ জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, “প্রেসক্লাবটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। এই বিতর্কিত জায়গাটি কোনো সংগঠনের নামে না রেখে সেখানে যাত্রী ছাউনি অথবা পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।”

​এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাৎ রত্ন বলেন, “ছাত্রদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সাংবাদিকরা কেন বিতর্কিত কার্যালয়টি খুলেছেন, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”