ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
​গোদাগাড়ীতে স্কুল-কলেজ দখল ও সরকারি জমি নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে মাদক নিরাময় কেন্দ্র বন্ধের চেষ্টা ও উচ্ছেদের আলটিমেটাম বেনাপোল-চৌগাছা সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ বেনাপোল সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও অবৈধ চোরাচালানী মালামালসহ আটক-২ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতার প্রতিবাদে কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল রাজশাহীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার বেনাপোলে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক-৩ কালিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ রাজশাহীতে শিবিরের বিরুদ্ধে দুই হোটেলে তাণ্ডবের অভিযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

বিরলে ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হক সাময়িক বরখাস্ত

সাদেকুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিরল(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বিরলে ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগে বিরল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একে এম ইকরামুল হক কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগের প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিমরান মোহাম্মদ সায়েক সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান
গত ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন পীড়নের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা অনুযায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক একেএম ইকরামুল হকের মুঠোফোনে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তহিদুল ইসলাম জানান, পূর্বের আমাদের স্কুলের ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক একে এম ইকরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গত রবিবার (২৯ মার্চ) এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করছে মরে অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ইকরামুল হককে প্রকাশ্যে রাস্তায় উত্তমমধ্যম দিয়েছে যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ হয়েছে তা আমারও নজড়ে পড়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পূর্বেও একাধিক অনৈতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এসব বিষয় আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে, একের পর এক এমন অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সহকারী শিক্ষক একে এম ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে এর আগে বেশ কয়েকবার ছাত্রীদের যৌন পীড়ন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে পড়ে মেয়ের সম্মানের কথা মাথায় রেখে ভুক্তভোগীর পরিবার বাড়াবাড়ি না করে ভুল স্বীকারের মাধ্যমে শেষ হয় ঘটনার আবার কোন ঘটনায় থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েও শেষ মেষ সমাধান হয়েই যায়। তবে রবিবার (২৯ মার্চ) পূনরায় শিক্ষক ইকরামুল হকের এ ধরনের ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যতার সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ অভিভাবকই তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে এতটাই আতঙ্কিত যে, তারা বলেছেন, “অন্যত্র কোনো স্কুলে ভর্তি করাবো, তবুও এ স্কুলে আর মেয়েকে পড়াবো না।”

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি ইকরামুল স্যারকে অনেক সম্মান করতাম। তিনি আমাদের শিক্ষক। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোনে নানাভাবে আপত্তিকর মেসেজ দিতেন। রিপ্লাই না করলে, সরাসরি দেখা হলে তিনি নানাভাবে আপত্তিকর কথা বলতেন। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি গুরুতর যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা তার শাস্তি চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিরলে ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হক সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বিরল(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বিরলে ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগে বিরল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একে এম ইকরামুল হক কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগের প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিমরান মোহাম্মদ সায়েক সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান
গত ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন পীড়নের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা অনুযায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক একেএম ইকরামুল হকের মুঠোফোনে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তহিদুল ইসলাম জানান, পূর্বের আমাদের স্কুলের ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন পীড়নের অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক একে এম ইকরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গত রবিবার (২৯ মার্চ) এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করছে মরে অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ইকরামুল হককে প্রকাশ্যে রাস্তায় উত্তমমধ্যম দিয়েছে যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ হয়েছে তা আমারও নজড়ে পড়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পূর্বেও একাধিক অনৈতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এসব বিষয় আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে, একের পর এক এমন অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সহকারী শিক্ষক একে এম ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে এর আগে বেশ কয়েকবার ছাত্রীদের যৌন পীড়ন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে পড়ে মেয়ের সম্মানের কথা মাথায় রেখে ভুক্তভোগীর পরিবার বাড়াবাড়ি না করে ভুল স্বীকারের মাধ্যমে শেষ হয় ঘটনার আবার কোন ঘটনায় থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েও শেষ মেষ সমাধান হয়েই যায়। তবে রবিবার (২৯ মার্চ) পূনরায় শিক্ষক ইকরামুল হকের এ ধরনের ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যতার সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ অভিভাবকই তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে এতটাই আতঙ্কিত যে, তারা বলেছেন, “অন্যত্র কোনো স্কুলে ভর্তি করাবো, তবুও এ স্কুলে আর মেয়েকে পড়াবো না।”

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি ইকরামুল স্যারকে অনেক সম্মান করতাম। তিনি আমাদের শিক্ষক। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোনে নানাভাবে আপত্তিকর মেসেজ দিতেন। রিপ্লাই না করলে, সরাসরি দেখা হলে তিনি নানাভাবে আপত্তিকর কথা বলতেন। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি গুরুতর যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা তার শাস্তি চাই।