জুয়া-মাদক ঘিরে বেড়েছে চুরি, নিরাপত্তাহীনতায় গ্রামবাসী
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার ৩ নম্বর ছাগলাদাহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সম্প্রতি ছিঁচকে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কুশলা গ্রামে গত এক থেকে দেড় মাসে একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসাবাড়ির টিউবওয়েলের হাতল, ভ্যানের ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, গৃহস্থালি সামগ্রী যেমন বালতি, গামলা এমনকি মসজিদের মোটর পর্যন্ত চুরি হচ্ছে। এতে করে গ্রামীণ জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে এলাকায় মাদকের বিস্তারও সমানতালে বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সহজলভ্য গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের কারণে উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্ত এসব তরুণের একটি অংশই নেশার অর্থ জোগাড় করতে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকে বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের দুর্বলতা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না থাকাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এ বিষয়ে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তেরখাদা ইয়ংস্টার কমিউনিটি’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লিমন লস্কর বলেন, বর্তমানে এলাকায় মাদকের বিস্তারের পাশাপাশি চুরির ঘটনাও বেড়ে গেছে। আমরা এ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং খুব শিগগিরই ইউএনও মহোদয় ও থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবো।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক দোকানের সামনে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। মানুষ কাজ বাদ দিয়ে জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। জুয়া ও মাদকের টাকার প্রয়োজনেই অনেকে চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
লিমন লস্কর জানান, যাদের ধরা হচ্ছে, অনেক সময় তাদের স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে। এটা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমরা শীঘ্রই এলাকাতে চুরি ও মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও র্যালি করবো। তরুণদের সচেতন করা, পরিবারকে দায়িত্বশীল করা এবং সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। শুধু প্রশাসন নয়, আমাদের নিজেদেরও সামাজিক দায়িত্ব আছে। প্রতিটি পরিবার যদি সচেতন হয়, তাহলে অনেক অপরাধই কমে আসবে।
এছাড়া তিনি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে ধ্বংস করে না, পুরো পরিবারকে শেষ করে দেয়। তরুণদের খেলাধুলা, পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করতে হবে। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি, সামাজিক প্রতিরোধ এবং তরুণদের বিকল্প কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই পারে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।










