ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে শিবিরের বিরুদ্ধে দুই হোটেলে তাণ্ডবের অভিযোগ, থমথমে পরিস্থিতি বিএসএফ নিতে প্রস্তুত, আইনি জটিলতায় নিজ দেশে ফিরতে পারছে না চার ভারতীয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের সাথে রেডা নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহী নৃত্যশিল্পী ঐক্য জোটের রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারী তিন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ! কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রকৃত তথ্য জানাল সিটি কর্পোরেশন ​প্রতারণা মামলায় রাজশাহীতে কথিত সাংবাদিক চপল গ্রেফতার দুই মাসে ১৪ নির্যাতন, রাজশাহীতে নারী ও শিশু পরিস্থিতি হতাশাজনক বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হাসিনা আনছারের জন্মদিন

চিকিৎসক সংকটে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা!

আবু- তারেক বাঁধন
  • আপডেট সময় : ০১:০২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট ও ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ পালনের বেড়াজালে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  পদটি অতিরিক্ত দায়িত্বে চলায় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা—উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) কোনো চিকিৎসকের দেখা নেই। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার হাসপাতালে শয্যা খালি না পেয়ে উন্নত চিকিৎসার আশায় ঠাকুরগাঁও সদর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী রোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারি এই হাসপাতালে সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ তৎকালীন কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদের বদলির পর থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএইচএফপিও ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার) দায়িত্ব পালন করছেন।

সদর থেকে পীরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় দুই জায়গার দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে , অতিরিক্ত দায়িত্ব হওয়ার কারণে তিনি সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন হাসপাতালে আসেন এবং খুব অল্প সময় অবস্থান করেন।ফলে প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়ারিস ইয়াজদানি বলেন, “চিকিৎসক সংকট ও অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে আমাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোগীর চাপ দিন দিন বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।”

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি পীরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। ঠাকুরগাঁও সদর থেকে পীরগঞ্জের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিদিন সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া আমি নিজেও কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। তবুও ফোনে যতটুকু সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।”

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিসুর রহমান বলেন, “পীরগঞ্জের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে।” এছাড়া হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে জেনারেটর বা সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।

আবু তারেক বাঁধন

ঠাকুরগাঁও

০১৭৫৫৩০৬৩১৯।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চিকিৎসক সংকটে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা!

আপডেট সময় : ০১:০২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট ও ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ পালনের বেড়াজালে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  পদটি অতিরিক্ত দায়িত্বে চলায় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা—উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) কোনো চিকিৎসকের দেখা নেই। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার হাসপাতালে শয্যা খালি না পেয়ে উন্নত চিকিৎসার আশায় ঠাকুরগাঁও সদর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী রোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারি এই হাসপাতালে সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ তৎকালীন কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদের বদলির পর থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএইচএফপিও ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার) দায়িত্ব পালন করছেন।

সদর থেকে পীরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় দুই জায়গার দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে , অতিরিক্ত দায়িত্ব হওয়ার কারণে তিনি সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন হাসপাতালে আসেন এবং খুব অল্প সময় অবস্থান করেন।ফলে প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়ারিস ইয়াজদানি বলেন, “চিকিৎসক সংকট ও অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে আমাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোগীর চাপ দিন দিন বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।”

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি পীরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। ঠাকুরগাঁও সদর থেকে পীরগঞ্জের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিদিন সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া আমি নিজেও কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। তবুও ফোনে যতটুকু সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।”

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিসুর রহমান বলেন, “পীরগঞ্জের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে।” এছাড়া হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে জেনারেটর বা সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।

আবু তারেক বাঁধন

ঠাকুরগাঁও

০১৭৫৫৩০৬৩১৯।