নাচই যার জীবনের সঙ্গী, পুরস্কারে সমৃদ্ধ কেয়ার পথচলা
- আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নাচের সঙ্গে পথচলা শুরু কেয়ার। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিতে নাচের প্রতি তৈরি হয় গভীর ভালোবাসা। বাবা-মায়ের উৎসাহ ও পরিবারের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে নিজেকে একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলেন তিনি।
নাচের জগতে কেয়ার সাফল্যের ঝুলিও বেশ সমৃদ্ধ। ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে ‘চলো আয়েশার নাচিয়ে’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সারাদেশের দর্শকের কাছে পরিচিতি পান। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একজন পরিপূর্ণ নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন কেয়া।
পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনেও নিজের নৃত্যদল নিয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মণিপুরী অনুরাগ নৃত্যালয়’-এর মাধ্যমে মণিপুরী নৃত্যের পাশাপাশি লোকনৃত্য ও সৃজনশীল নৃত্য নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজনের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও প্রতিষ্ঠানটির শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নৃত্য বিষয়ক অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন কেয়া ও তার দল।
নৃত্যের প্রতি দীর্ঘদিনের এই সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে সোহাগ ডান্স ট্রুপ আয়োজিত ‘নৃত্য রত্ন’ পুরস্কার অর্জন করেন কেয়া। এই সম্মাননা তার দীর্ঘ নৃত্যজীবনের পথচলায় নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
তবে এই পথচলা সবসময় সহজ ছিল না। নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে গিয়ে নানা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থেমে না গিয়ে পরিবারকে পাশে নিয়ে প্রতিটি বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। পরিবারের উৎসাহ ও নিজের অধ্যবসায়কেই এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি মনে করেন কেয়া।
ভবিষ্যতেও নৃত্যকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে এগিয়ে যেতে চান এই শিল্পী। নিজেকে আরও দক্ষ ও গুণী নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সারাজীবন নৃত্যচর্চা ও নৃত্যের প্রসারে কাজ করে যেতে চান কেয়া। তার স্বপ্ন, দেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যধারাকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নৃত্যের প্রতি আগ্রহী করে তোলা।











