ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল নিয়ে কর্মশালায় তপু খান
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
চলচ্চিত্র নির্মাণের পর পোস্ট-প্রডাকশন থেকে শুরু করে দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্মাতা, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী কর্মশালা ‘বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে আয়োজিত এ কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তপু খান। শাকিব খান অভিনীত ‘আমিই বাংলাদেশ’ সিনেমার পরিচালক তপু খান মূলধারার চলচ্চিত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে সিনেমার নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, দর্শক সম্পৃক্ততা, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও বাণিজ্যিক কৌশল নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রডাকশনের পরবর্তী ধাপ, ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরের ভূমিকা, ডিস্ট্রিবিউশন কৌশল, হল নির্বাচন ও বুকিং, প্রযোজক-পরিবেশক-প্রদর্শকের পারস্পরিক সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের বিপণন ও দর্শক তৈরি, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং বাণিজ্যিক অবস্থান নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
বিশেষ একটি অধিবেশনে ‘সিনেমা পরিবেশনা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ বিষয়ে আলোচনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাদার যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
কর্মশালায় গুরুত্ব পায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলচ্চিত্রের বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশনের বিষয়টিও। আলোচনায় বলা হয়, সিনেমার দর্শক শুধু ঢাকা কিংবা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও রয়েছে সম্ভাবনাময় দর্শক। ফলে একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধু নির্মাণের মানের ওপর নির্ভর করে না, সঠিক ডিস্ট্রিবিউশন পরিকল্পনার মাধ্যমে কত বেশি দর্শকের কাছে সিনেমাটি পৌঁছাতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় চলচ্চিত্র পরিবেশনার নৈতিকতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। স্বচ্ছ রাজস্ব বণ্টন, সঠিক বক্স অফিস রিপোর্টিং, ন্যায্য স্ক্রিন বরাদ্দ, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা, কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা এবং অনুমোদিত সংস্করণ প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার।
এছাড়া কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী এ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণ নয়, পোস্ট-প্রডাকশন, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রদর্শনসহ পুরো চলচ্চিত্র ব্যবস্থাপনাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
‘বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ কর্মশালার মাধ্যমে নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের সিনেমার নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, বাজার ও ডিস্ট্রিবিউশন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও পেশাগত ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।












