ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি ব্যাংকের এমডি নন, ‘মাসরুর’ পরিচয় নিয়ে নতুন গুঞ্জন নায়করাজের স্মৃতিতে আবির চৌধুরী আফতাবনগর সোসাইটিতে আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগ ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল নিয়ে কর্মশালায় তপু খান ১৮৫ দেশ জয়: লাল-সবুজের পতাকা হাতে নতুন ইতিহাস গড়লেন নাজমুন নাহার অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সফল নওরিন ​বিএমডিএতে ফের জাহাঙ্গীর : জনস্বার্থে অপসারণের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন: শ্রমিক নেতা এয়াকুব বিজ্ঞাপন থেকে সিনেমা, সামিয়ার স্বপ্নের পথে নতুন বাঁক বুশরা গ্রুপে নিজের ৪ লক্ষ টাকা জমা, তবু সাংবাদিককে নবজাতকের হাসপাতাল বিল দিতে ধার!

সিটি ব্যাংকের এমডি নন, ‘মাসরুর’ পরিচয় নিয়ে নতুন গুঞ্জন

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিত্রনায়িকা তমা মির্জার একটি বেসরকারি ব্যাংকে যোগদানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংক ও বিনোদনজগতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আবারও সামনে এসেছে ২০২১ সালের পরীমণির আলোচিত বিলাসবহুল গাড়ি বিতর্ক এবং ‘মাসরুর’ নামের বিভ্রান্তি।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও কিছু কথিত সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, পরীমণিকে গাড়ি উপহার দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত ব্যক্তি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন নন; বরং তিনি খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। তবে এই দাবিগুলোর স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক যাচাই হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে পরীমণির প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের মাসেরাতি গাড়ি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদে মাসরুর আরেফিনের নাম উঠে আসে। ওই সময়ই তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পরীমণির সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয়, যোগাযোগ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। এমনকি তিনি কখনো তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেননি বলে দাবি করেন।

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, তিনি ব্যাংকিং ও সাহিত্যচর্চার বাইরে ক্লাব বা পার্টিকেন্দ্রিক সামাজিক পরিসরে চলাফেরা করেন না। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নাম প্রকাশিত হলেও মাসরুর আরেফিন প্রশ্ন তোলেন, ওই নামে সিটি ব্যাংকের কোনো চেয়ারম্যানই নেই। তাঁর বক্তব্য ছিল, ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পরিচয়ই যদি ভুলভাবে প্রকাশিত হয়, তাহলে একই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এর কয়েক দিনের মাথায়, ২৪ আগস্ট ২০২১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক প্রথম পাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভুল স্বীকার করে। পত্রিকাটি জানায়, ভুলবশত মাসরুর আরেফিনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরীমণির ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় পত্রিকাটি দুঃখ প্রকাশ করে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে যে বয়ান ছড়িয়েছে, সেখানে দাবি করা হচ্ছে আলোচিত ‘মাসরুর’ ছিলেন খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু, যিনি সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো আদালতের রায়, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

সব মিলিয়ে পরীমণির গাড়ি বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে একই নামকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি। একদিকে মাসরুর আরেফিনের প্রকাশ্য অস্বীকৃতি ও পত্রিকার সংশোধনী, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নতুন দাবি। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিটি ব্যাংকের এমডি নন, ‘মাসরুর’ পরিচয় নিয়ে নতুন গুঞ্জন

আপডেট সময় : ০৭:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

চিত্রনায়িকা তমা মির্জার একটি বেসরকারি ব্যাংকে যোগদানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংক ও বিনোদনজগতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আবারও সামনে এসেছে ২০২১ সালের পরীমণির আলোচিত বিলাসবহুল গাড়ি বিতর্ক এবং ‘মাসরুর’ নামের বিভ্রান্তি।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও কিছু কথিত সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, পরীমণিকে গাড়ি উপহার দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত ব্যক্তি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন নন; বরং তিনি খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। তবে এই দাবিগুলোর স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক যাচাই হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে পরীমণির প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের মাসেরাতি গাড়ি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদে মাসরুর আরেফিনের নাম উঠে আসে। ওই সময়ই তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পরীমণির সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয়, যোগাযোগ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। এমনকি তিনি কখনো তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেননি বলে দাবি করেন।

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, তিনি ব্যাংকিং ও সাহিত্যচর্চার বাইরে ক্লাব বা পার্টিকেন্দ্রিক সামাজিক পরিসরে চলাফেরা করেন না। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নাম প্রকাশিত হলেও মাসরুর আরেফিন প্রশ্ন তোলেন, ওই নামে সিটি ব্যাংকের কোনো চেয়ারম্যানই নেই। তাঁর বক্তব্য ছিল, ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পরিচয়ই যদি ভুলভাবে প্রকাশিত হয়, তাহলে একই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এর কয়েক দিনের মাথায়, ২৪ আগস্ট ২০২১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক প্রথম পাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভুল স্বীকার করে। পত্রিকাটি জানায়, ভুলবশত মাসরুর আরেফিনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরীমণির ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় পত্রিকাটি দুঃখ প্রকাশ করে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে যে বয়ান ছড়িয়েছে, সেখানে দাবি করা হচ্ছে আলোচিত ‘মাসরুর’ ছিলেন খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু, যিনি সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো আদালতের রায়, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

সব মিলিয়ে পরীমণির গাড়ি বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে একই নামকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি। একদিকে মাসরুর আরেফিনের প্রকাশ্য অস্বীকৃতি ও পত্রিকার সংশোধনী, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নতুন দাবি। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।