ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশাল আলোর পথচলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন অধ্যায় রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ রুয়েটের নিরাপত্তার দায়িত্বে ‘আ.লীগের দোসর’, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ কাভার করেছে বাংলাদেশের একমাত্র সংবাদমাধ্যম বিডিস্পোর্টসটাইম কঠোর পরিশ্রমে সাফল্য, মাসে লাখ টাকা আয় মাইনুলের ফটোগ্রাফিতে স্বপ্নীলের এক দশকের পথচলা ডিএমএফ’র সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মানিক ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস জিনিয়াসে চ্যাম্পিয়ন অর্ণবের ফ্যাশন টিম প্র্যাবের নতুন সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সরকারি রাস্তা দখল নিয়ে রাজশাহীতে সংঘর্ষ: গৃহবধূর অলংকার ছিনতাই ও কুপিয়ে জখমের

মশাল আলোর পথচলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বেচ্ছাসেবামূলক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ সংগঠক তানজিল আমীন শুভ। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মশাল আলোর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা বাড়াতে সংগঠনটির নেওয়া উদ্যোগ আন্তর্জাতিক এই সম্মাননার আনুষ্ঠানিক তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছে।

মশাল আলোর ‘পিওর ওয়াটার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ১৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এসব নলকূপ থেকে প্রতিদিন এক হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন। অথচ আগে ওই উপজেলার কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের খাবার পানি সংগ্রহ করতে এক থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হতো। নলকূপ স্থাপনের ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।

প্রিন্সেস অব ওয়েলস প্রয়াত ডায়ানার স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড সমাজ ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তরুণদের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তরুণদের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা অর্জনের মধ্য দিয়ে তানজিল আমীন শুভর পাশাপাশি মশাল আলোর কার্যক্রমও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।

২০১৫ সালে টাঙ্গাইলে স্কুলে পড়ার সময় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১০টি শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণের মধ্য দিয়ে মশাল আলোর যাত্রা শুরু করেন তানজিল। ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় ১১ বছরের পথচলায় সংগঠনটি বাস্তবায়ন করেছে ৫৮টির মতো প্রকল্প। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মানুষের জীবিকা উন্নয়নে সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অর্জনের অনুভূতি জানিয়ে তানজিল আমীন শুভ বলেন, ‘পুরস্কারে আমার নাম থাকলেও, এর পেছনে মূল অবদান মশাল আলোর স্বেচ্ছাসেবকদের। তাঁদের পরিশ্রমেই একেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।’ সংগঠনের প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই এই অর্জনের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

এদিকে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়ার কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত করতে একটি অ্যাপ তৈরির কাজ করছে মশাল আলো। এ প্রসঙ্গে তানজিল বলেন, জরুরি সময়ে রোগীর পরিবার যেন দ্রুত সম্ভাব্য রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে জন্যই আমরা অ্যাপটি তৈরি করছি। শিগগিরই এটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তানজিল আমীন শুভ ২০২৪ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি অনার্স) সম্পন্ন করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড প্রফেশনসে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই সামাজিক কর্মকাণ্ড এখন অসংখ্য মানুষের উপকারে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মশাল আলোর পথচলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন অধ্যায়

আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

স্বেচ্ছাসেবামূলক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ সংগঠক তানজিল আমীন শুভ। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মশাল আলোর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা বাড়াতে সংগঠনটির নেওয়া উদ্যোগ আন্তর্জাতিক এই সম্মাননার আনুষ্ঠানিক তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছে।

মশাল আলোর ‘পিওর ওয়াটার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ১৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এসব নলকূপ থেকে প্রতিদিন এক হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন। অথচ আগে ওই উপজেলার কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের খাবার পানি সংগ্রহ করতে এক থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হতো। নলকূপ স্থাপনের ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।

প্রিন্সেস অব ওয়েলস প্রয়াত ডায়ানার স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড সমাজ ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তরুণদের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তরুণদের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা অর্জনের মধ্য দিয়ে তানজিল আমীন শুভর পাশাপাশি মশাল আলোর কার্যক্রমও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।

২০১৫ সালে টাঙ্গাইলে স্কুলে পড়ার সময় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১০টি শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণের মধ্য দিয়ে মশাল আলোর যাত্রা শুরু করেন তানজিল। ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় ১১ বছরের পথচলায় সংগঠনটি বাস্তবায়ন করেছে ৫৮টির মতো প্রকল্প। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মানুষের জীবিকা উন্নয়নে সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অর্জনের অনুভূতি জানিয়ে তানজিল আমীন শুভ বলেন, ‘পুরস্কারে আমার নাম থাকলেও, এর পেছনে মূল অবদান মশাল আলোর স্বেচ্ছাসেবকদের। তাঁদের পরিশ্রমেই একেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।’ সংগঠনের প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই এই অর্জনের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

এদিকে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়ার কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত করতে একটি অ্যাপ তৈরির কাজ করছে মশাল আলো। এ প্রসঙ্গে তানজিল বলেন, জরুরি সময়ে রোগীর পরিবার যেন দ্রুত সম্ভাব্য রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে জন্যই আমরা অ্যাপটি তৈরি করছি। শিগগিরই এটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তানজিল আমীন শুভ ২০২৪ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি অনার্স) সম্পন্ন করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড প্রফেশনসে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই সামাজিক কর্মকাণ্ড এখন অসংখ্য মানুষের উপকারে আসছে।