ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে : প্রধান প্রকৌশলী থেকে জিএম আহমেদ হোসেন মাসুমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ‘পটু’ চরিত্রে অভিনয়ে নজর কাড়লেন শিশুশিল্পী আয়াত গুলশান-২ এ ‘বারোক ক্যাফের’ নতুন শাখার উদ্বোধন চলচ্চিত্র পরিচালক ইকবালের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটে দোকান বরাদ্দ নিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা ও চুরির অভিযোগ দেশীয় ফ্যাশনের ব্র্যান্ড নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো রানওয়ে উইক ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ফেন্সি আইকনিকের নতুন আউটলেট পলাতক আলিফকে খুঁজছে পুলিশ নাচ থেকে অভিনয়ে, ব্যস্ত সময় পার করছেন সোনিয়া লাজুক ‘শিক্ষার্থী নিয়ে উধাও’ হওয়ার খবর কাল্পনিক, সামাজিকভাবে হেয় করার চক্রান্ত : আইএইচটি শিক্ষক

রাজশাহীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে থিম ওমর প্লাজায় লুটপাট, তদন্তে পিবিআই

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক ভবন ‘থিম ওমর প্লাজা’য় সশস্র হামলা, দাপ্তরিক নথিপত্র ছিনতাই এবং কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীর অনুমতিক্রমে প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অ্যান্ড এস্টেট অফিসার আসাদুল হক বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

​গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বোয়ালিয়া থানা আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

​মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামীরা হলেন—জাকিরুল ইসলাম (৩৮), সুমন কুমার সরকার (৩৫), আব্দুল আওয়াল (৪০) ও মো. রায়হান হোসেন (৩২)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২ ও ৩ নম্বর আসামী (সুমন ও আওয়াল) থিম ওমর প্লাজার সাবেক কর্মচারী ছিলেন। শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে আসামীরা পিস্তল, লোহার রড, হাসুয়া ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থিম ওমর প্লাজার ৭ম তলায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আসামীরা একাউন্ট অফিসার মো. ইউসুফ আলী ও লিগ্যাল অফিসার আসাদুল হকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করেন। এরপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে কক্ষের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেই সময় ড্রয়ার ও লকার ভেঙে মোট ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ টাকা লুটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে দিয়ে আসামীরা অফিসের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তালাবদ্ধ করে দেয়।

​এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামীরা মার্কেট ও অফিস দখলে রাখেন। এই সময়ের মধ্যে তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৩৩০ টাকা লুট করেন। এ ছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকানের ভাড়া ও জামানত বাবদ আরও ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১৬ টাকা হাতিয়ে নেন। আসামীরা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ধ্বংস এবং নথিপত্র বিনষ্ট করেছেন, যা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​গত ১৪ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে আসামীরা ভবনের ৯ তলায় অবস্থিত কোম্পানির চেয়ারম্যানের পারিবারিক বাসভবন ‘পেন্ট হাউজে’ হামলা চালায়। সেখানে গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চড়-থাপ্পড় মেরে বাসার চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ড্রয়ার ও আলমারি ভেঙে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মূল্যবান শোপিস (এন্টিক সামগ্রী) লুট করা হয়। ওই সময় আসামীরা হুমকি দেন যে, মাসিক চাঁদা না দিলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীকে দেখা মাত্র প্রাণনাশের চেষ্টা করা হবে।

​বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার পর গত ১৪ জানুয়ারি বোয়ালিয়া থানায় অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-AS0560) করা হয়েছিল। তবে থানা পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়ায় মামলাটি দায়ের করতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। আদালত পিবিআইকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী সুমন ও আওয়াল বলেন, মামলার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে আপনি যেসব কথা বললেন তা সঠিক নয়। আমরা তাঁদের আন্ডারে চাকুরি করতাম। এরপর বিনা কারণে তাঁরা আমাদের চাকুরী থেকে বাদ দেয়। বর্তমানে আমরা জাকির এন্টারপ্রাইজ এর আওতায় কাজ করছি।

​কথা বলতে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজশাহীর এসপি’র সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে থিম ওমর প্লাজায় লুটপাট, তদন্তে পিবিআই

আপডেট সময় : ১২:৪৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক ভবন ‘থিম ওমর প্লাজা’য় সশস্র হামলা, দাপ্তরিক নথিপত্র ছিনতাই এবং কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীর অনুমতিক্রমে প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অ্যান্ড এস্টেট অফিসার আসাদুল হক বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

​গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বোয়ালিয়া থানা আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

​মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামীরা হলেন—জাকিরুল ইসলাম (৩৮), সুমন কুমার সরকার (৩৫), আব্দুল আওয়াল (৪০) ও মো. রায়হান হোসেন (৩২)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২ ও ৩ নম্বর আসামী (সুমন ও আওয়াল) থিম ওমর প্লাজার সাবেক কর্মচারী ছিলেন। শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে আসামীরা পিস্তল, লোহার রড, হাসুয়া ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থিম ওমর প্লাজার ৭ম তলায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আসামীরা একাউন্ট অফিসার মো. ইউসুফ আলী ও লিগ্যাল অফিসার আসাদুল হকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করেন। এরপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে কক্ষের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেই সময় ড্রয়ার ও লকার ভেঙে মোট ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ টাকা লুটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে দিয়ে আসামীরা অফিসের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তালাবদ্ধ করে দেয়।

​এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামীরা মার্কেট ও অফিস দখলে রাখেন। এই সময়ের মধ্যে তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৩৩০ টাকা লুট করেন। এ ছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকানের ভাড়া ও জামানত বাবদ আরও ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১৬ টাকা হাতিয়ে নেন। আসামীরা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ধ্বংস এবং নথিপত্র বিনষ্ট করেছেন, যা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​গত ১৪ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে আসামীরা ভবনের ৯ তলায় অবস্থিত কোম্পানির চেয়ারম্যানের পারিবারিক বাসভবন ‘পেন্ট হাউজে’ হামলা চালায়। সেখানে গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চড়-থাপ্পড় মেরে বাসার চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ড্রয়ার ও আলমারি ভেঙে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মূল্যবান শোপিস (এন্টিক সামগ্রী) লুট করা হয়। ওই সময় আসামীরা হুমকি দেন যে, মাসিক চাঁদা না দিলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীকে দেখা মাত্র প্রাণনাশের চেষ্টা করা হবে।

​বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার পর গত ১৪ জানুয়ারি বোয়ালিয়া থানায় অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-AS0560) করা হয়েছিল। তবে থানা পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়ায় মামলাটি দায়ের করতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। আদালত পিবিআইকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী সুমন ও আওয়াল বলেন, মামলার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে আপনি যেসব কথা বললেন তা সঠিক নয়। আমরা তাঁদের আন্ডারে চাকুরি করতাম। এরপর বিনা কারণে তাঁরা আমাদের চাকুরী থেকে বাদ দেয়। বর্তমানে আমরা জাকির এন্টারপ্রাইজ এর আওতায় কাজ করছি।

​কথা বলতে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজশাহীর এসপি’র সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।