১৮৫ দেশ জয়: লাল-সবুজের পতাকা হাতে নতুন ইতিহাস গড়লেন নাজমুন নাহার
- আপডেট সময় : ০৭:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের নাম বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন দেশের কৃতি অভিযাত্রী নাজমুন নাহার। গত ৭ আগস্ট ভুটান ভ্রমণের মাধ্যমে তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ১৮৫তম দেশ ঘুরে দেখার ঐতিহাসিক গৌরব। এই অনন্য অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু দেশের প্রথম নারীই নন, বরং বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে লাল-সবুজ পতাকা হাতে এত বিশাল সংখ্যক দেশ ভ্রমণের বিরল কৃতিত্ব গড়লেন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণের সুবাদে তাঁর অর্জনে যোগ হয়েছিল ১৮৪তম দেশের মাইলফলক।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই দীর্ঘ অভিযাত্রা মোটেও ফুল বিছানো ছিল না। সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, বালিময় মরুভূমি, উত্তাল সাগর কিংবা দুর্গম সীমান্ত—সব বাধা পেরিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন। বিশেষ করে কোনো সঙ্গী ছাড়াই পুরোদমে সলো ট্রাভেলার হিসেবে সড়কপথে বিশ্বভ্রমণ করেছেন তিনি। পদে পদে জীবনের ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তা থাকলেও বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন থেকে তাঁকে একচুলও টলানো যায়নি।
খ্রিস্টীয় ২০০০ সালে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক যুব ফোরামের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার হাত ধরেই তাঁর এই রোমাঞ্চকর পথচলার সূত্রপাত। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৮ সালের ১ জুন জিম্বাবুয়ে ঘুরে তিনি স্পর্শ করেন শততম দেশের মাইলফলক। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে পা রেখে পূর্ণ করেন ১৫০টি দেশ। এ ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ভানুয়াতু এবং ২০২৫ সালের শেষভাগে বাহামা অতিক্রম করে তিনি পৌঁছে যান ১৮৪তম ঘরে।
নাজমুন তাঁর এই বিশ্বভ্রমণকে কেবল ব্যক্তিগত আনন্দ বা পর্যটনের গণ্ডিতে আটকে রাখেননি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলেছেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি সংস্কৃতি ও অর্জনের ইতিহাস নিয়ে। এছাড়া ‘নো ওয়ার, অনলি পিস’, ‘সেভ দ্য প্ল্যানেট’ ও ‘স্টপ চাইল্ড ম্যারেজ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্ববাসীর কাছে। তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন এই নারী।
তাঁরে এই বর্ণাঢ্য অভিযাত্রার স্বীকৃতিও এসেছে নানামুখী সম্মাননার মাধ্যমে। এর মধ্যে গত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাঁকে ‘ফ্ল্যাগ লরিয়েট অব ন্যাশনাল প্রাইড’ উপাধিতে ভূষিত করে। তাঁর এই সাহস ও শান্তির বার্তাকে তারা জাতীয় অহংকার হিসেবে আখ্যায়িত করে।
সর্বশেষ ভুটান সফর প্রসঙ্গে নাজমুন জানান, হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশটির পাহাড়ি সৌন্দর্য ও নির্মল পরিবেশ তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। পারো, থিম্পু, পুনাখা, দোচুলা থেকে শুরু করে হা ভ্যালির বিভিন্ন প্রান্তে তিনি উড়িয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা। ২৬ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁর হাতে ওড়া লাল-সবুজ পতাকা আজ নিছক কোনো কাপড়ের টুকরো নয়; এটি বিশ্বদরবারে এক অদম্য বাংলাদেশি নারীর সাহস ও শক্তির প্রতীক।















