আফতাবনগর সোসাইটিতে আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:১০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
আফতাবনগর সোসাইটিতে আর্থিক অনিয়ম, আবাসিক প্লটের অপব্যবহার, অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সোসাইটির বাসিন্দা ও প্লটমালিকদের একটি অংশ।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁরা। আবেদনে সোসাইটির সভাপতি মো. আলমগীর ঢালী ও সাধারণ সম্পাদক এস. এম. কামালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, সোসাইটির বাসিন্দাদের কাছ থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সেবার নামে প্রতি মাসে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবে এই অর্থের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয় না।

এ ছাড়া সোসাইটির আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ অডিট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিবছর কোনো স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান বা স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অডিট করা হয় না।
আবেদনে চলতি বছরে গরুর হাট পরিচালিত না হলেও সোসাইটির হিসাবপত্রে গরুর হাটের ‘রিট’ বাবদ প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
আবাসিক এলাকার প্লট বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের আবাসিক প্লট বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছেন। এতে আবাসিক এলাকার ভূমি ব্যবহার নীতিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সোসাইটির সভাপতির মালিকানাধীন ‘নূর টাওয়ার’ রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভবনটির অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আবেদনে ডি ব্লকের লোহার সেতুর কাছে একটি আবাসিক প্লট দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি এল ব্লকের সেক্টর-২-এর ২ নম্বর সড়কে একটি বড় গুদামে খাবার রান্না ও প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে ধোঁয়া, দুর্গন্ধ, শব্দদূষণ ও অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আবাসিক প্লটে ‘নোবেল স্কুল’ পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবহার ও ভবন ব্যবহার বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সোসাইটির দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে সোসাইটির প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন ব্যাহত হচ্ছে।
আবেদনে সোসাইটির গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরপেক্ষভাবে অডিট, ময়লা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে আদায় করা অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং গরুর হাটের নামে দেখানো ব্যয়ের সত্যতা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি আবাসিক প্লটে পরিচালিত অবৈধ বা অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ, ‘নূর টাওয়ার’সহ অভিযোগে উল্লেখ করা ভবনগুলোর নকশা ও অনুমোদন যাচাই এবং এল ব্লকের গুদাম ও খাদ্য প্রস্তুত কার্যক্রমের বৈধতা খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছে।
প্রয়োজনে ডিএনসিসি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন আফতাবনগর সোসাইটির সচেতন বাসিন্দা ও প্লটমালিকদের পক্ষ থেকে আবেদনকারীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাস্তা বন্ধ করে ডাম্পিং গাড়ি রাখার অভিযোগ
আফতাবনগরের সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, বাড্ডা থানা এলাকার এভিনিউ রোডে আইনবহির্ভূতভাবে ডাম্পিংয়ের গাড়ি রেখে সড়কের একটি অংশ বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সড়ক দখল করে ডাম্পিংয়ের গাড়ি রাখা বন্ধ করা এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
















