ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অল্প বয়সেই একের পর এক সাফল্য, আইপা অ্যাওয়ার্ড জিতল আনাহিতা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের গল্প নিয়ে নিউইয়র্কে ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বহুমুখী ওপেন মার্কেটপ্লেস টেকসই উন্নয়ন ও মানবসেবার প্রত্যয়ে ‘সি ফাউন্ডেশন’-এর পথচলা ​নাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পরিচয় ‘সাংবাদিক’ : বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে হামলায় যুবলীগ কর্মী জেলে নারীদের নিয়ে বড় স্বপ্ন, সেরা উদ্যোক্তার সম্মাননা পেলেন আফরোজা দেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল–২০২৬ অফিসিয়াল সিলেকশনে ‘বৈদেশ’ উমারপুর ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল হিসেবে গড়তে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলাম মন্ডল ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে যুবলীগ নেতা প্রার্থী সংস্কৃতি অঙ্গনে অনন্যা আজিজের নতুন পথচলা

দিল্লিতে করোনায় আরও দুজনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫ ৩৩৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে করোনাভাইরাসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডে’ আজ শনিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে ভাইরাসটিতে মোট তিনজন মারা গেছেন।

মৃত ব্যক্তিদের একজন ৬০ বছর বয়সী নারী। তিনি পেটে অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর অন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন। পরে তাঁর দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। অন্যজন ৭১ বছর বয়সী পুরুষ, যিনি নিউমোনিয়া, সেপটিক শক এবং তীব্র কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। সেপটিক শক হলো একটি স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা, যা সাধারণত রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দিল্লিতে করোনায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৭৫। গতকাল শুক্রবারের পর থেকে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৮১ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

দিল্লি ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে করোনা ধরন ‘অমিক্রন’ সংশ্লিষ্ট নতুন ধরনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এসব দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ধরনগুলো অমিক্রনের উপধারা, যার মধ্যে রয়েছে জেএন.১-এর উপধারা এলএফ.৭ এবং এনবি১.৮।

ভারতে সম্প্রতি যেসব নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই কেরালা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও তামিলনাড়ু রাজ্যের। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ মৃদু প্রকৃতির এবং তা থেকে গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

যা মেনে চলা জরুরি

যদি সর্দি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা বা জ্বরের উপসর্গ থাকে কিংবা বহু মানুষের ভিড় রয়েছে, এমন কোনো জায়গায় যেতে হয়, তবে অবশ্যই মাস্ক পরা উচিত। ২০২৩ সালের এআইআইএমস/আইসিএমআর-কোভিড-১৯ জাতীয় টাস্কফোর্সের গাইডলাইন অনুযায়ী, মৃদু উপসর্গ থাকলে বাড়িতেই সঙ্গনিরোধে (আইসোলেশনে) থাকা নিরাপদ।

বাড়িতে বা একাধিক মানুষ আছে, এমন কোনো কক্ষে থাকতে হলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা এবং ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে। বিশ্রাম, তরল পান এবং উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমে মৃদু সংক্রমণ সামলানো যায়। জ্বর ও অক্সিজেনের মাত্রা নিয়মিত মেপে দেখতে হবে। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

শ্বাসকষ্ট হলে, অক্সিজেন স্তর ৯৩ শতাংশের নিচে নেমে গেলে অথবা পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে উচ্চ জ্বর বা তীব্র কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৬০ বছরের বেশি বয়সী, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, যক্ষ্মা, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস, কিডনি বা লিভারের রোগে ভোগা ব্যক্তি, স্থূলতা রয়েছে এমন মানুষ বা যাঁরা এখনো টিকা নেননি তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিল্লিতে করোনায় আরও দুজনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে করোনাভাইরাসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডে’ আজ শনিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে ভাইরাসটিতে মোট তিনজন মারা গেছেন।

মৃত ব্যক্তিদের একজন ৬০ বছর বয়সী নারী। তিনি পেটে অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর অন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন। পরে তাঁর দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। অন্যজন ৭১ বছর বয়সী পুরুষ, যিনি নিউমোনিয়া, সেপটিক শক এবং তীব্র কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। সেপটিক শক হলো একটি স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা, যা সাধারণত রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দিল্লিতে করোনায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৭৫। গতকাল শুক্রবারের পর থেকে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৮১ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

দিল্লি ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে করোনা ধরন ‘অমিক্রন’ সংশ্লিষ্ট নতুন ধরনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এসব দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ধরনগুলো অমিক্রনের উপধারা, যার মধ্যে রয়েছে জেএন.১-এর উপধারা এলএফ.৭ এবং এনবি১.৮।

ভারতে সম্প্রতি যেসব নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই কেরালা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও তামিলনাড়ু রাজ্যের। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ মৃদু প্রকৃতির এবং তা থেকে গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

যা মেনে চলা জরুরি

যদি সর্দি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা বা জ্বরের উপসর্গ থাকে কিংবা বহু মানুষের ভিড় রয়েছে, এমন কোনো জায়গায় যেতে হয়, তবে অবশ্যই মাস্ক পরা উচিত। ২০২৩ সালের এআইআইএমস/আইসিএমআর-কোভিড-১৯ জাতীয় টাস্কফোর্সের গাইডলাইন অনুযায়ী, মৃদু উপসর্গ থাকলে বাড়িতেই সঙ্গনিরোধে (আইসোলেশনে) থাকা নিরাপদ।

বাড়িতে বা একাধিক মানুষ আছে, এমন কোনো কক্ষে থাকতে হলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা এবং ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে। বিশ্রাম, তরল পান এবং উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমে মৃদু সংক্রমণ সামলানো যায়। জ্বর ও অক্সিজেনের মাত্রা নিয়মিত মেপে দেখতে হবে। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

শ্বাসকষ্ট হলে, অক্সিজেন স্তর ৯৩ শতাংশের নিচে নেমে গেলে অথবা পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে উচ্চ জ্বর বা তীব্র কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৬০ বছরের বেশি বয়সী, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, যক্ষ্মা, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস, কিডনি বা লিভারের রোগে ভোগা ব্যক্তি, স্থূলতা রয়েছে এমন মানুষ বা যাঁরা এখনো টিকা নেননি তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত।