ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাধা পেরিয়ে স্বপ্নজয়ের পথে নারী উদ্যোক্তা সাকিলা সুলতানা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে নতুন চরিত্রে সানজিদা তাসনীম যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব নৌ দিবস–২০২৬ উদযাপন জন্মদিনে পরিবারই মৌ রহমানের সবচেয়ে বড় আনন্দ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে : প্রধান প্রকৌশলী থেকে জিএম আহমেদ হোসেন মাসুমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ‘পটু’ চরিত্রে অভিনয়ে নজর কাড়লেন শিশুশিল্পী আয়াত গুলশান-২ এ ‘বারোক ক্যাফের’ নতুন শাখার উদ্বোধন চলচ্চিত্র পরিচালক ইকবালের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটে দোকান বরাদ্দ নিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা ও চুরির অভিযোগ দেশীয় ফ্যাশনের ব্র্যান্ড নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো রানওয়ে উইক

রাজশাহীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তাঁর একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রায় তিন মিনিটের ওই অডিওতে একজন ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

​অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পর টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, “আমার ব্যবসার বিএসটিআই অনুমোদন আছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পরে বলা হয়, ব্যবসা চালাতে হলে টাকা দিতে হবে। এক লাখ দশ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ঈদ শুভেচ্ছার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।”

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি দাবি করেন, এটি একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা কথোপকথন। সেটি এডিট করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ছড়ানো হয়েছে।

​গোলাম মোস্তফা মামুন গত জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি এর আগে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বলেও জানা গেছে।

​এদিকে অভিযোগ উঠেছে, মামুন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও বিতর্কে রয়েছেন। কিছু সাংবাদিকের অভিযোগ, তিনি মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়েও প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে এসেছেন এবং এ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকজন সাংবাদিকের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার থেকে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

​এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “চাঁদাবাজির বিষয়টি যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে দলীয়ভাবে তাকে শোকজ করা হবে।”

​অভিযোগ ও অডিও প্রসঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার

আপডেট সময় : ০৩:২১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তাঁর একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রায় তিন মিনিটের ওই অডিওতে একজন ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

​অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পর টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, “আমার ব্যবসার বিএসটিআই অনুমোদন আছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পরে বলা হয়, ব্যবসা চালাতে হলে টাকা দিতে হবে। এক লাখ দশ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ঈদ শুভেচ্ছার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।”

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি দাবি করেন, এটি একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা কথোপকথন। সেটি এডিট করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ছড়ানো হয়েছে।

​গোলাম মোস্তফা মামুন গত জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি এর আগে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বলেও জানা গেছে।

​এদিকে অভিযোগ উঠেছে, মামুন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও বিতর্কে রয়েছেন। কিছু সাংবাদিকের অভিযোগ, তিনি মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়েও প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে এসেছেন এবং এ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকজন সাংবাদিকের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার থেকে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

​এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “চাঁদাবাজির বিষয়টি যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে দলীয়ভাবে তাকে শোকজ করা হবে।”

​অভিযোগ ও অডিও প্রসঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।