ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বাগমারার বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে তোলপাড়, মামুন মহুরীকে ঘিরে অতীতের অভিযোগে তৃণমূলে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা বিএনপিতে মামুনুর রশিদ মামুন ওরফে মামুন মহুরীকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, পুরোনো মামলার ইতিহাস এবং বর্তমান দলীয় সক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূলের একাংশ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের দাবি, দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত অতীত থাকা ব্যক্তিদের সামনে আনার চেষ্টা সাংগঠনিকভাবে অস্বস্তি তৈরি করছে।

স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগমারা উপজেলার পলাশী গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে মামুনুর রশিদ বর্তমানে নিজেকে সক্রিয় বিএনপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বে আসা এবং আগামী গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে যারা হামলা, মামলা ও নির্যাতনের মুখেও রাজপথে ছিলেন, তাঁদের পরিবর্তে নতুন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রভাবশালী করে তোলার চেষ্টা চলছে। এতে দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মামুন মহুরীর অতীত ঘিরেও নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুরোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাগমারা থানা পুলিশ তাঁকে জেএমবি-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটক করে। পরে তাঁকে একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া ২০০২ ও ২০০৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও কয়েকটি মামলা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থা নিশ্চিত করতে আদালতের নথি যাচাই প্রয়োজন।

বিতর্কের আরেকটি কারণ হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি। এসব ছবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—অতীতে অন্য রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির প্রভাবশালী ভূমিকায় আসার চেষ্টা করছেন।

গোয়ালকান্দি ইউনিয়নসহ বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অতীতের ভূমিকা, সাংগঠনিক অবদান এবং গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁদের ভাষ্য, বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাগমারার বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে তোলপাড়, মামুন মহুরীকে ঘিরে অতীতের অভিযোগে তৃণমূলে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা বিএনপিতে মামুনুর রশিদ মামুন ওরফে মামুন মহুরীকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, পুরোনো মামলার ইতিহাস এবং বর্তমান দলীয় সক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূলের একাংশ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের দাবি, দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত অতীত থাকা ব্যক্তিদের সামনে আনার চেষ্টা সাংগঠনিকভাবে অস্বস্তি তৈরি করছে।

স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগমারা উপজেলার পলাশী গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে মামুনুর রশিদ বর্তমানে নিজেকে সক্রিয় বিএনপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বে আসা এবং আগামী গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে যারা হামলা, মামলা ও নির্যাতনের মুখেও রাজপথে ছিলেন, তাঁদের পরিবর্তে নতুন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রভাবশালী করে তোলার চেষ্টা চলছে। এতে দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মামুন মহুরীর অতীত ঘিরেও নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুরোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাগমারা থানা পুলিশ তাঁকে জেএমবি-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটক করে। পরে তাঁকে একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া ২০০২ ও ২০০৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও কয়েকটি মামলা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থা নিশ্চিত করতে আদালতের নথি যাচাই প্রয়োজন।

বিতর্কের আরেকটি কারণ হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি। এসব ছবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—অতীতে অন্য রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির প্রভাবশালী ভূমিকায় আসার চেষ্টা করছেন।

গোয়ালকান্দি ইউনিয়নসহ বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অতীতের ভূমিকা, সাংগঠনিক অবদান এবং গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁদের ভাষ্য, বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।