ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
​গোদাগাড়ীতে স্কুল-কলেজ দখল ও সরকারি জমি নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে মাদক নিরাময় কেন্দ্র বন্ধের চেষ্টা ও উচ্ছেদের আলটিমেটাম বেনাপোল-চৌগাছা সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ বেনাপোল সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও অবৈধ চোরাচালানী মালামালসহ আটক-২ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতার প্রতিবাদে কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল রাজশাহীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার বেনাপোলে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক-৩ কালিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ রাজশাহীতে শিবিরের বিরুদ্ধে দুই হোটেলে তাণ্ডবের অভিযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

মধুপুরে গাছ নিধনের পর বনে আগুন ॥ ৭৫ একর ভূমি জবরদখলের পায়তারা

আঃ হামিদ
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ মধুপুর বনাঞ্চলে প্রকাশ্য দিবালোকে গাছ নিধনের পর বনে আগুন লাগিয়ে ৭৫ একর বনভূমি জবর দখলের পায়তারা চলছে। প্রভাবশালীরা বন দখলের নেপথ্যে থাকায় ঘটনার দুই সপ্তাহ

পরেও বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বন কর্মীদের নির্লিপ্ত ভূমিকায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, দোখলা রেঞ্জের সদর বিটের অরনখোলা মৌজার ২৪ দাগের মাগী চেরা এলাকার ৭৫ একর বনভূমি ২০২১-২২ অর্থ বছরে সামাজিক বনায়নের আওতায় ৮৫ অংশীদারের
মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। অংশদারত্বের উডলট মডেলের বনায়নে প্লটধারিরা আকাশমনি গাছের চারা লাগায়। বৃক্ষ চারার ফাঁকে আনারস ও কলা চারা লাগায়। এসব গাছ ১০/১২ বছর পার হওয়ার পর ক্লেয়ার ফেলিং করে হিস্যা বন্টনের কথা। কিন্তু প্লট হোল্ডাররা গাছের বয়স চার বছর পার না হতেই নির্বিচারে কেটে জ্বালানী হিসাবে ইটভাটায় চালান দেয়। ফলে বনায়ন করা এলাকার প্রায় পুরোটাই বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় প্লট মালিকরা বনতলের জঙ্গলে অগ্নি সংযোগ করে জমি খালি করে ফেলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব খালি জমি এখন প্রভাবশালী দখলে নিচ্ছে।
সামাজিক বনায়ন সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোত্তালেব হোসেন জানান, বন কর্মীদের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালীমহল টানা দুই সপ্তাহ জুড়ে সেখানকার সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে জমি বিরান করে। পরে বনতলের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে পুরো জমি জবরদখলে নিচ্ছে।
এসব জমিতে নতুন করে আর বনায়ন হবেনা। পুরোটাই চলে যাচ্ছে দখলদারের হাতে। এ ভাবেই মধুপুর বনাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার একর বনভূমি জবরদখলে চলে গেছে।
সামনের দিনে সরকারি বনভূমি আরো বেহাত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরিনধরা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, যারা এ কাজ করছে তাদের সবাই চিনে। কিন্তু বন বিভাগ বন অপরাধী খোঁজার নামে সময় ক্ষেপন করছে।
দোখলা বিট অফিসার এ কে আজাদ জানান, গাছ নিধন এবং বনতলে আগুন দেয়ার খবর পান তিন দিন আগে। এর সাথে জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অফিস থেকে মাত্র এক কিলো দূরের মাগী চেরায় টানা ১৫ দিন ধরে গাছ কাটা এবং আগুনে বন পোড়ানোর মহোৎসবের খবর পেতে কেন ১২ দিন লাগলো প্রশ্নে জানান, তিনি দুই সপ্তাহ আগে জয়েন করেছেন। সবাইকে চেনেননা। তাই চোর আর সাধু মেলাতে তদন্ত করতে হচ্ছে। দোখলা রেঞ্জ অফিসার সাব্বির হোসেন জানান, দুস্কৃৃতকারিরা সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে জঙ্গল পুড়িয়ে জবরদখলের পায়তারা করছেন বলে তিনি শুনেছেন। বিট অফিসার বিষয়টি দেখছেন। মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারি বন সংরক্ষক রানা দেব জানান,কয়েকজন প্লট হোল্ডার আকাশমনি বাগান উজাড় করে আগুনে পুড়িয়ে জমি দখল এবং তা প্রভাবশালীদের নিকট বিক্রি করার পায়তারা করছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মধুপুরে গাছ নিধনের পর বনে আগুন ॥ ৭৫ একর ভূমি জবরদখলের পায়তারা

আপডেট সময় : ১১:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ মধুপুর বনাঞ্চলে প্রকাশ্য দিবালোকে গাছ নিধনের পর বনে আগুন লাগিয়ে ৭৫ একর বনভূমি জবর দখলের পায়তারা চলছে। প্রভাবশালীরা বন দখলের নেপথ্যে থাকায় ঘটনার দুই সপ্তাহ

পরেও বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বন কর্মীদের নির্লিপ্ত ভূমিকায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, দোখলা রেঞ্জের সদর বিটের অরনখোলা মৌজার ২৪ দাগের মাগী চেরা এলাকার ৭৫ একর বনভূমি ২০২১-২২ অর্থ বছরে সামাজিক বনায়নের আওতায় ৮৫ অংশীদারের
মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। অংশদারত্বের উডলট মডেলের বনায়নে প্লটধারিরা আকাশমনি গাছের চারা লাগায়। বৃক্ষ চারার ফাঁকে আনারস ও কলা চারা লাগায়। এসব গাছ ১০/১২ বছর পার হওয়ার পর ক্লেয়ার ফেলিং করে হিস্যা বন্টনের কথা। কিন্তু প্লট হোল্ডাররা গাছের বয়স চার বছর পার না হতেই নির্বিচারে কেটে জ্বালানী হিসাবে ইটভাটায় চালান দেয়। ফলে বনায়ন করা এলাকার প্রায় পুরোটাই বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় প্লট মালিকরা বনতলের জঙ্গলে অগ্নি সংযোগ করে জমি খালি করে ফেলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব খালি জমি এখন প্রভাবশালী দখলে নিচ্ছে।
সামাজিক বনায়ন সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোত্তালেব হোসেন জানান, বন কর্মীদের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালীমহল টানা দুই সপ্তাহ জুড়ে সেখানকার সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে জমি বিরান করে। পরে বনতলের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে পুরো জমি জবরদখলে নিচ্ছে।
এসব জমিতে নতুন করে আর বনায়ন হবেনা। পুরোটাই চলে যাচ্ছে দখলদারের হাতে। এ ভাবেই মধুপুর বনাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার একর বনভূমি জবরদখলে চলে গেছে।
সামনের দিনে সরকারি বনভূমি আরো বেহাত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরিনধরা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, যারা এ কাজ করছে তাদের সবাই চিনে। কিন্তু বন বিভাগ বন অপরাধী খোঁজার নামে সময় ক্ষেপন করছে।
দোখলা বিট অফিসার এ কে আজাদ জানান, গাছ নিধন এবং বনতলে আগুন দেয়ার খবর পান তিন দিন আগে। এর সাথে জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অফিস থেকে মাত্র এক কিলো দূরের মাগী চেরায় টানা ১৫ দিন ধরে গাছ কাটা এবং আগুনে বন পোড়ানোর মহোৎসবের খবর পেতে কেন ১২ দিন লাগলো প্রশ্নে জানান, তিনি দুই সপ্তাহ আগে জয়েন করেছেন। সবাইকে চেনেননা। তাই চোর আর সাধু মেলাতে তদন্ত করতে হচ্ছে। দোখলা রেঞ্জ অফিসার সাব্বির হোসেন জানান, দুস্কৃৃতকারিরা সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে জঙ্গল পুড়িয়ে জবরদখলের পায়তারা করছেন বলে তিনি শুনেছেন। বিট অফিসার বিষয়টি দেখছেন। মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারি বন সংরক্ষক রানা দেব জানান,কয়েকজন প্লট হোল্ডার আকাশমনি বাগান উজাড় করে আগুনে পুড়িয়ে জমি দখল এবং তা প্রভাবশালীদের নিকট বিক্রি করার পায়তারা করছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।